পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় তথ্য সামনে এল। পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক বোর্ডের সচিব অঞ্জন কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, ভারতের বর্তমান তরল জ্বালানির ভান্ডার দেশের আগামী ২০ থেকে ৪০ দিনের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত 'পিএইচডিসিআই হাইড্রোকার্বন সামিট ২০২৬'-এ বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
মজুত ভান্ডার নিয়ে সংশয় ও বাস্তবতা

অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল যে ভারতের কাছে মাসের পর মাস চলার মতো জ্বালানি মজুত আছে কিনা। এই বিষয়ে পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক বোর্ডের সচিব স্পষ্ট করে দেন যে, ছয় মাস বা তার বেশি সময় চলার মতো বিশাল ভান্ডার তৈরি করা কার্যত অসম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ভান্ডার রয়েছে ঠিকই। কিন্তু তা বড়জোর ২০ থেকে ৪০ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। এর বেশি দীর্ঘমেয়াদী মজুত রাখা সম্ভব নয়।’ তবে এই তথ্য সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরির জন্য নয়, বরং বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য জানানো হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়া সংকট ও ভারতের অবস্থান
ইরান-আমেরিকার সংঘাত বা হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার প্রভাব ভারতের ওপর পড়ছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে পিএনজিআরবি সচিব লুকোছাপা করেননি। তিনি স্বীকার করেন যে, বিশ্বজুড়ে চলা এই অস্থিরতার আঁচ ভারত পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সরকার এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং আমাদের কাছে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা প্ল্যান বি তৈরি আছে। জ্বালানি সংকটের কোনও ভয় নেই, তাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ার কোনও প্রয়োজন নেই।’
{{/usCountry}}ইরান-আমেরিকার সংঘাত বা হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার প্রভাব ভারতের ওপর পড়ছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে পিএনজিআরবি সচিব লুকোছাপা করেননি। তিনি স্বীকার করেন যে, বিশ্বজুড়ে চলা এই অস্থিরতার আঁচ ভারত পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সরকার এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং আমাদের কাছে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা প্ল্যান বি তৈরি আছে। জ্বালানি সংকটের কোনও ভয় নেই, তাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ার কোনও প্রয়োজন নেই।’
{{/usCountry}}নতুন বিকল্পের সন্ধানে নয়াদিল্লি
আমদানি নির্ভরতা কমাতে ভারত এখন আর কেবল পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ওপর ভরসা করে নেই। রাশিয়ার পাশাপাশি ভারত এখন মোজাম্বিক এবং অ্যাঙ্গোলার মতো দেশগুলো থেকেও তেল আমদানির পথ প্রশস্ত করছে। সচিব মিশ্রের মতে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, তাই উৎস বহুমুখীকরণই এখন সেরা কৌশল।
দাম কি বাড়বে?
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতের বাজারে তার প্রভাব পড়বে কিনা— এই প্রশ্নে তিনি ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন। তাঁর মতে, দামের যে কোনও বৃদ্ধি হবে অত্যন্ত অস্থায়ী। বিশ্ব পরিস্থিতি শান্ত হলেই তেলের দাম আবার স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসবে। ভারতের শক্তিশালী অর্থনীতি এই সাময়িক ধাক্কা সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।