ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত এবং তাতে আমেরিকার অংশগ্রহণ কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং একটি বিশ্বজনীন অর্থনৈতিক ধাক্কার সংকেত দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই যুদ্ধের খরচ প্রায় ১.৮৮ লাখ কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে ইরান এবং ইজরায়েল-আমেরিকা জোটের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি। যদি ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়, তবে তার সম্ভাব্য খরচ কত হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একাধিক রিপোর্ট উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে যে এই যুদ্ধের খরচ প্রায় ১.৮৮ লাখ কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
যুদ্ধের আকাশচুম্বী খরচ
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ইরানের পতাকা। (ছবি সৌজন্যে এপি)
{{^htLoading}} {{/htLoading}}
একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের জন্য কেবল সামরিক রণকৌশলই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন হয় বিশাল অঙ্কের বাজেট। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন অভিযান বা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ১,৮৮,৭০,০০,০০,০০,০০০ (১.৮৮ লাখ কোটি টাকা)। এই খরচের মধ্যে রয়েছে উন্নতমানের মিসাইল সিস্টেম, বিমান হামলা, গোয়েন্দা নজরদারি, যুদ্ধবিমান ব্যবহারের মতো বিষয়।
সেইসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে অতীতে আফগানিস্তান বা ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে যে প্রাথমিক বাজেটের চেয়ে যুদ্ধের প্রকৃত খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা বিবেচনা করলে এই যুদ্ধ আমেরিকার অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থ হলো পারস্য উপসাগরে অস্থিরতা। এর ফলে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। ভারত বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলো যারা জ্বালানি তেলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের অর্থনীতিতে এটি সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখতে কড়া পদক্ষেপ জরুরি। অন্যদিকে, সমালোচকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করা মার্কিন অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির সঙ্গে এই বিশাল পরিমাণ যুদ্ধব্যয় কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে খোদ আমেরিকার ভিতরেই প্রশ্ন উঠেছে।
অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা:
নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা:
অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।