...
...
Next Story

Indian Navy Warship Triplets: চিনের চাপ বাড়বে! একইদিনে ভারতীয় নৌসেনাকে ৩ রণতরী দিল কলকাতা, আছে ব্রহ্মস মিসাইল

ভারতীয় নৌসেনার শক্তি বৃদ্ধিতে ঐতিহাসিক দিন! কলকাতার GRSE একইদিনে নৌসেনার হাতে তুলে দিল দুনাগিরি, অগ্রেয় ও সংশোধক-এর মতো তিনটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। জানুন এই রণতরীগুলোর বিশেষত্ব এবং কীভাবে এগুলি সমুদ্রের বুক থেকে শত্রু বিনাশ করতে সক্ষম

Published on: Apr 1, 2026, 10:59:14 IST
Advertisement

ভারতের সামুদ্রিক সুরক্ষায় সূচনা হল এক নতুন অধ্যায়ের। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করে একই দিনে ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হল তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ (আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক, আইএনএস অগ্রেয়)। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের তরফে সেই তিনটি রণতরী তুলে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় নৌসেনার হাতে। আর তারর ফলে ভারত মহাসাগর এবং সংলগ্ন অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত আধিপত্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

দুনাগিরি (স্টেলথ ফ্রিগেট)

কলকাতার GRSE একইদিনে নৌসেনার হাতে তুলে দিল তিনটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। (ছবি সৌজন্যে পিটিআই)
কলকাতার GRSE একইদিনে নৌসেনার হাতে তুলে দিল তিনটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। (ছবি সৌজন্যে পিটিআই)

'দুনাগিরি' হল প্রজেক্ট ১৭এ-র অধীনে নির্মিত নীলগিরি শ্রেণির পঞ্চম রণতরী। এটি একটি গাইডেড-মিসাইল স্টেলথ ফ্রিগেট, যার দৈর্ঘ্য ১৪৯ মিটার এবং ওজন প্রায় ৬,৬৭০ টন। এই জাহাজটির বিশেষত্ব হল রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা বা 'স্টেলথ ফিচার'। এটি অত্যাধুনিক সেন্সর এবং অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত, যার মধ্যে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল এবং উন্নত প্রযুক্তির সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই শক্তিশালী রণতরীটি আকাশপথ, সমুদ্রের উপরিভাগ এবং জলের তলদেশে বহুমুখী হামলা চালাতে সক্ষম।

অগ্রেয় (অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ)

সমুদ্রের অগভীর জলে শত্রুপক্ষের সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ শনাক্ত করতে এবং সেগুলিকে ধ্বংস করতে 'অগ্রেয়' জাহাজটি অত্যন্ত কার্যকর। ৭৭ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজটি ওয়াটারজেট প্রপালশন প্রযুক্তিতে চালিত, যা একে দ্রুত গতি এবং চটজলদি মোড় ঘোরার ক্ষমতা প্রদান করে। এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি টর্পেডো এবং রকেট লঞ্চারে সজ্জিত। অগভীর জলে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারতের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

১১০ মিটার দীর্ঘ 'সংশোধক' মূলত সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি এবং হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভের জন্য নির্মিত। তবে কেবল সমীক্ষা নয়, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে এটি একটি ভাসমান হাসপাতাল হিসেবে কাজ করতে পারে এবং হেলিকপ্টার অপারেশনে সহায়তা দিতে সক্ষম। গভীর সমুদ্রে তথ্য সংগ্রহ এবং কৌশলগত অবস্থানে নজরদারি চালানোর জন্য এটি ভারতের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ।

আরও পড়ুন: Israel on India's role as mediator: 'জেহাদি….…', পাক নিজেই ১টা সমস্যা, যুদ্ধ থামাতে ভারত কথা বলুক, দাবি তুলল ইজরায়েল

চিন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির মোকাবিলায় ভারতের নৌ-শক্তি বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। একইদিনে তিনটি ফ্রন্টলাইন প্ল্যাটফর্মের ডেলিভারি চিনের কাছে একটি কড়া বার্তা। এই জাহাজগুলি ভারতীয় নৌসেনার নজরদারি এবং আক্রমণাত্মক ক্ষমতাকে এমন এক স্তরে নিয়ে যাবে, যা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে 'দুনাগিরি'-র মতো স্টেলথ ফ্রিগেট শত্রুর রাডারে ধরা না পড়ে আঘাত হানতে সক্ষম, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আরও পড়ুন: US Report on Pakistan terrorist: পর্দাফাঁস ইসলামাবাদের! ১৫ জঙ্গি গোষ্ঠীর নিরাপদ ডেরা পাক, ধরিয়ে দিল মার্কিন রিপোর্টই

আত্মনির্ভর ভারতের সার্থকতা

এই তিনটি জাহাজেই ৮০ শতাংশের বেশি দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। জিআরএসইয়ের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে ভারত এখন উচ্চমানের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিপইয়ার্ডটি এ ইপর্যন্ত মোট ১১৮টি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছে, যার মধ্যে ৮০টি কেবল ভারতীয় নৌসেনার জন্য। বর্তমানে আরও ৩০টি জাহাজের কাজ করছে, যার মধ্যে ১৩টি রফতানি করা হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe