NEET-UG 2026 Exam Rule: নিট (NEET UG) পরীক্ষায় জালিয়াতি বা কারচুপি রুখতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC)। সম্প্রতি একটি নির্দেশিকায় কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নিট পরীক্ষার সময় দেশের কোনও মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস (MBBS) পড়ুয়াদের কোনো ধরণের ছুটি মঞ্জুর করা হবে না। মূলত পরীক্ষার দিনগুলিতে মেডিকেল পড়ুয়ারা যাতে 'প্রক্সি' পরীক্ষার্থী বা 'সলভার গ্যাং'-এর অংশ হয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কারণ

বিগত কয়েক বছরে নিট পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে কয়েকটি ক্ষেত্রে মেধাবী মেডিকেল পড়ুয়ারা টাকার বিনিময়ে অন্য পরীক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষা দিয়ে দেন। যেহেতু মেডিকেল পড়ুয়ারা বিষয়গুলি সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত, তাই তাদের 'সলভার' হিসেবে ব্যবহার করা অপরাধী চক্রগুলোর কাছে সহজ হয়ে দাঁড়ায়। এই ধরণের জালিয়াতি রুখতে ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন এবার সরাসরি মেডিকেল কলেজগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
NMC-র কড়া নির্দেশিকা
NMC-র সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, পরীক্ষার নির্ধারিত দিন এবং তার আগে-পিছিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকদিন এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। বিশেষ কারণ বা জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনও শিক্ষার্থীকে ছুটি দেওয়া যাবে না। এমনকী কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখে। যদি কোনও শিক্ষার্থী বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: UPSC Success Tips: কোচিং ছাড়াই UPSC-তে বাজিমাত ২১ বছরের তরুণীর, র্যাঙ্ক হল ৬১, কীভাবে প্রস্তুতি?
কেন এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ?
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: UPSC Success Tips: কোচিং ছাড়াই UPSC-তে বাজিমাত ২১ বছরের তরুণীর, র্যাঙ্ক হল ৬১, কীভাবে প্রস্তুতি?
কেন এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ?
{{/usCountry}}১) জালি পরীক্ষার্থী রোখা: অনেক সময় অভিযোগ ওঠে, মেডিকেল পড়ুয়ারা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে নিট পরীক্ষার্থীদের হয়ে হলে বসে। হস্টেলে তাদের অনুপস্থিতি অনেক সময় ধামাচাপা পড়ে যায়। নতুন নিয়মে বায়োমেট্রিক বা রেজিস্টারে সই বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই জালিয়াতি অনেকটাই কমবে।
২) পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা: লাখ-লাখ পরীক্ষার্থী প্রতি বছর নিট পরীক্ষায় বসেন। যোগ্য প্রার্থীরা যাতে বঞ্চিত না হয় এবং অসাধু উপায়ে কেউ যাতে সুযোগ না পায়, তা নিশ্চিত করা কমিশনের প্রাথমিক লক্ষ্য।
৩) মেডিকেল কলেজগুলোর দায়বদ্ধতা: এই নির্দেশের ফলে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষও সরাসরি দায়বদ্ধ থাকবে। কোনও পড়ুয়া যদি জালিয়াতিতে ধরা পড়েন, তবে সংশ্লিষ্ট কলেজের প্রশাসনিক গাফিলতিও খতিয়ে দেখা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত
শিক্ষা মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক পড়ুয়ার মতে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা পারিবারিক সমস্যার কারণে ছুটির প্রয়োজন হতেই পারে, সেক্ষেত্রে এই গণ-নিষেধাজ্ঞা কিছুটা চাপের সৃষ্টি করতে পারে। তবে জাতীয় স্বার্থে এবং চিকিৎসা পেশার পবিত্রতা রক্ষায় এই ত্যাগ স্বীকার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।