পাকিস্তানের প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান তথা আইএসআই প্রধান জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফয়জ হমিদের কোর্ট মার্শার চলছে। এই কোর্ট মার্শাল পর্বের মধ্যেই পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে একের পর এক পোস্ট আসতে শুরু করেছে বলে খবর। এরই মধ্যে পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনের ডিজি, আহমেদ শরিফ চৌধুরী মুখ খুলেছেন এই কোর্ট মার্শাল পর্ব ঘিরে।
গত ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে আচমকাই পাকিস্তানের সেনা জানায়, সেদেশের জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফয়জ হমিদকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হামিদের পরিচিতি পাকিস্তানের প্রাক্তন আইএসআই চিফ হিসাবে। ফয়জের বিরুদ্ধে সেই সময়ই কোর্ট মার্শালের পর্ব শুরু করে পাকিস্তান সেনা। এদিকে, সদ্য পাকিস্তানের একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, যে ফয়জকে ঘিরে কি কোনও বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পাকিস্তান সেনা? সেই সিদ্ধান্ত কি খুব শিগগিরই আসছে? এই সমস্ত প্রশ্ন চিহ্নের মাঝে এদিন পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল মুনিরের সেনার আইএসপিআর মুখ খুলেছে। আইএসপিআর-র ডিজি আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন,' বিচার প্রক্রিয়াটি একটি আইনি বিষয়, এটি নিয়ে কোনও জল্পনা-কল্পনা করা উচিত নয়। বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছালে তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করা হবে।'
একটি বেসরকারি হাউজিং সোসাইটির মালিক কর্তৃক দায়ের করা সেনা আইন লঙ্ঘন এবং অসদাচরণের অভিযোগে হামিদকে ২০২৪ সালের অগস্টে হেফাজতে নিয়েছিল পাকিস্তানি সেনা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলেছিল যে একটি সামরিক আদালত তাঁকে তিনটি অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, গুপ্তচরবৃত্তি বিরোধী আইন লঙ্ঘন করা এবং তাঁর কর্তৃত্বের অপব্যবহার করা। এমনই তথ্য জানিয়েছে, পাকিস্তানি সংবাদপত্র ‘দ্য ডন’।
অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল হামিদ, যিনি পাকিস্তানের গুপ্তচরবাহিনীর প্রাক্তন চিফ, তাঁর এই কোর্ট মার্শাল পাকিস্তানের বুকে অন্যতম হাইপ্রোফাইল আইনি পর্ব। এটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল কোর্ট মার্শাল মামলাগুলির মধ্যে একটি, কারণ জেনারেল হামিদ হলেন দ্বিতীয় থ্রি স্টার জেনারেল এবং প্রথম প্রাক্তন আইএসআই প্রধান।