Maldives President in Pakistan Update: পাকিস্তানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০টি মউ স্বাক্ষর করল মালদ্বীপ। ইসলামাবাদের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিরক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পর্যটন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই সেইসব মউ স্বাক্ষর করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে সাক্ষাতের পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, আগামী দু'বছরের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ একলপ্তে ১৩.৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০০ মিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দু'দেশ। অর্থাৎ দু'বছরেই পাকিস্তান এবং মালদ্বীপের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪ গুণের বেশি বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
১১ বছর পরে পাক সফরে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট

এমনিতে মুইজ্জু যে ইসলামাবাদে গিয়েছেন, তা ১১ বছর পরে মালদ্বীপের কোনও প্রেসিডেন্ট প্রথম পাকিস্তান সফর। যে সফরে মালদ্বীপ এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তিরও উদযাপন করা হচ্ছে।
তাতে দু'দেশের মধ্যে যে ‘মাখো-মাখো’ সম্পর্ক দেখা গিয়েছে, তা ভারতের জন্য কিছুটা হলেও উদ্বেগের বিষয়। কারণ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মালদ্বীপ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আছে। সমুদ্রপথে ভারতের সুরক্ষা, বাণিজ্যের মতো কারণে মালদ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যে দেশকে বরাবর ব্যাপকভাবে সহায়তাও করে এসেছে ভারত।
মালদ্বীপকে ব্যাপক মাত্রায় সহায়তা করে এসেছে ভারত
আর সুরক্ষা, অর্থনীতি, পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মালদ্বীপকে নয়াদিল্লি এতটাই সাহায্য করে যে ভোটে জেতার সময় ‘ভারত-বিরোধী’ ডাক দিয়েও ক্ষমতায় আসার কয়েকদিন পরই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে থাকেন খোদ মুইজ্জু। তিনি একটা সময় কার্যত চিনের হাতের পুতুল হিসেবে পরিচিত হলেও কুর্সিতে বসে বুঝতে পারেন যে ভারতই প্রকৃত বন্ধু। তারপর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঠিক করারও চেষ্টা করেন। দিনকয়েক আগেই তাঁর সরকার ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে, কারণ মালদ্বীপের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ৩,০০০ কোটি টাকার মুদ্রা বিনিময় সুবিধার প্রথম রোলওভারের অনুমোদন দিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতকে ছাড়া বাঁচা সম্ভব নয় মালদ্বীপের, জানান প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি
{{/usCountry}}ভারতকে ছাড়া বাঁচা সম্ভব নয় মালদ্বীপের, জানান প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি
{{/usCountry}}এমনকী খোদ মালদ্বীপের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ নাশেদ ভারতকে ছাড়া তাঁদের দেশের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘আপনি যখন সরকারে আসতে চান, তখন আপনি যা খুশি বলে যেতে পারেন। কিন্তু একবার সরকারে এসে যাওয়ার পরে আপনি অনুভব করেন যে এগুলো বলা যাবে না। আপনাকে বিধান মেনে চলতে হবে। আমার মনে হয় যে আমরা ভারতকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। আমাদের অবশ্যই সেটা বুঝতে হবে এবং তাতে স্বীকৃতি দিতে হবে।’
তারপরও মুইজ্জু যে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মাখো-মাখো প্রেম’ দেখালেন, সেটা ভারতের দুশ্চিন্তা কিছুটা বাড়াবে। যদিও একাংশের ধারণা, পাকিস্তান যে যে ক্ষেত্রে মউ স্বাক্ষর করেছে, তার অধিকাংশ খাতেই নিজেদের কোনও মুরোদ নেই। চিনের মুখাপেক্ষী হয়ে চলতে হয়। ফলে পাকিস্তানকে নিয়ে বাড়তি চিন্তা হয়তো করতে হবে না নয়াদিল্লিকে। বরং চিন্তাটা মূলত চিনকে নিয়েই।