India Fighter Jet Warning to US: আমেরিকার 'ব্লাডপ্রেশার' বাড়িয়ে দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সূত্রের খবর, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সতর্ক করে দেন, পাকিস্তানকে যে সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি দিচ্ছে আমেরিকা, তা ‘তৃতীয় কোনও দেশের’ হাতে পৌঁছে যেতে পারে। ‘তৃতীয় দেশ’ হিসেবে কোনও নাম না নিলেও কূটনৈতিক মহলের মতে, আদতে চিন এবং ইরানের দিকে ইঙ্গিত করেছেন রাজনাথ। যা নিশ্চিতভাবে আমেরিকার রক্তচাপ বাড়িয়ে তুলবে।
এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্যাকেজের বিরোধিতায় ভারত

সূত্রের খবর, ফিলিপিন্সের সেবুতে ত্রয়োদশ আসিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক প্লাসের মধ্যেই হেগসেথের সঙ্গে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পর্যালোচনা করেন রাজনাথ। সেই রেশ ধরেই তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত যে প্যাকেজ পাকিস্তানকে দিচ্ছে আমেরিকা, তার তীব্র বিরোধিতা করছে ভারত।
সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে আমেরিকার দ্বিচারিতা
আসলে পাকিস্তানকে ৬৪৯ মিলিয়ন ডলারের এফ-১৬ সাপোর্ট এবং আপগ্রেড প্যাকেজ দিচ্ছে আমেরিকা। সেই প্যাকেজের আওতায় বিভিন্নরকম প্রযুক্তিগত সহায়তা পাবে পাকিস্তান। এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের নির্মাতা লকহিড মার্টিনের থেকে পাবে সহায়তা। তার ফলে পাকিস্তানের হাতে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমানের ‘চাকরির বয়স’ আরও বেড়ে যাবে। সেই যে দেশ জঙ্গিদের পুষে রাখে, সেটিকে এমন প্যাকেজ প্রদানের মাধ্যমে আদতে সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে আমেরিকার দ্বিচারিতা ফুটে উঠছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে।
আমেরিকার ‘সংবেদনশীল জায়গায়’ চাপ ভারতের
{{/usCountry}}আমেরিকার ‘সংবেদনশীল জায়গায়’ চাপ ভারতের
{{/usCountry}}আর বিষয়টি শুধু ভারতের বিরোধিতা বা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যে জড়িত নয়, তাও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেন রাজনাথ। সূত্রের খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষকর্তাকে সতর্ক করে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন যে ‘পাকিস্তানকে যে সংবেদনশীল প্রযুক্তি প্রদান করছে, তা তৃতীয় কোনও দেশের (পড়ুন ইরান বা চিন) কাছে পৌঁছে যেতে পারে।’
কারণ ইতিমধ্যে আমেরিকার পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের (ফিফথ জেনারেশন ফাইটার জেট) যন্ত্রাংশ চিনের হাতে পৌঁছে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমেরিকায় পাঠানোর সময় ভুলবশত হংকংয়ে পৌঁছে যায়। আর সেই পরিস্থিতিতে ওই অত্যাধুনিক ফাইটার জেটের ককপিট ক্যানোপি এবং ওয়েপন-বে ডোর চিনের হাতে পৌঁছে গিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই দুটি সরঞ্জামেই বিশেষ কোটিং থাকে, যার ফলে রেডারে ধরা পড়ে না এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। কিন্তু এখন সেটাই চিনের হাতে পড়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠায় মার্কিন প্রযুক্তির রহস্য ফাঁস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর সেই আশঙ্কার মধ্যেই এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের আপগ্রেড প্যাকেজ নিয়েও আমেরিকার রক্তচাপ বাড়িয়ে দিল ভারত।