রিঙ্কু সিংকে সহ-অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। আর সেই সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট যে রিঙ্কুকে ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে দেখছে নাইট ব্রিগেড। অর্থাৎ একটা সময় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, গৌতম গম্ভীররা যে দায়িত্বে ছিলেন, সেটাই আগামিদিনে পেতে পারেন রিঙ্কু। আপাতত এই বছর অজিঙ্কা রাহানের হাতেই কেকেআরের অধিনায়কত্বের ব্যাটন থাকছেন। কিন্তু ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই রিঙ্কুকে তাঁর ডেপুটি করা হল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যে রিঙ্কুকে হাতে-পিঠে তৈরি করেছে কেকেআর। আর তিনি কেকেআরের ভবিষ্যতও বটে।
রিঙ্কুর বিষয়ে কী বললেন KKR-র সিইও?

রিঙ্কুকে সহ-অধিনায়ক করার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মঙ্গলবার 'নাইটস আনপ্লাগড ৩.০' অনুষ্ঠানে কেকেআরের সিইও বেঙ্কি মাইসোর বলেন, 'ফ্র্যাঞ্চাইজি সকলের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে রিঙ্কু সিংকে সহ-অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে কেকেআরে যোগ দিয়েছিল রিঙ্কু। আর তখন থেকেই দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠেছে।'
আর কেকেআরের সেই ঘোষণার দিনকয়েক আগেই ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া সওয়াল করেছিলেন যে রিঙ্কুকে নাইট ব্রিগেডের অধিনায়ক করা উচিত। রেভস্পোর্টস কনক্লেভে আকাশ জানান যে রাহানেকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত আসলে কেকেআরের কাছে একটি ‘তৃতীয় পছন্দ’ বা থার্ড অপশন ছিল।
রিঙ্কুকে অধিনায়ক চাইছিলেন এই প্রাক্তনী
তাঁর মতে, কোনও বড় দল তাদের অধিনায়ক নির্বাচনের জন্য নিলামের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘নিলামে যখন শ্রেয়স আইয়ারের মতো নাম ছিল, তখন কেকেআরের উচিত ছিল বড় বাজি ধরা। অধিনায়কের জন্য সবসময় বাড়তি টাকা খরচ করা উচিত, কারণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নেতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আকাশের যুক্তি হল, রাহানে এমন একজন ক্রিকেটার যার ব্যাটিং পজিশন নিয়ে অনেক প্রতিকূলতা আছে। তিনি কেবল টপ অর্ডারে বা ওপেনিংয়েই সফল। কিন্তু কেকেআরের হাতে ইতিমধ্যেই সুনীল নারিন, ফিন অ্যালেন, টিম সেফার্ট, রাচিন রবীন্দ্রের মতো তারকা ওপেনাররা রয়েছেন। এই অবস্থায় রাহানেকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে অধিনায়ক করা মানে দলের ভারসাম্য নষ্ট করা।
রিঙ্কু সিং কেন যোগ্য বিকল্প?
আকাশ একটি ‘আউট অফ দ্য বক্স’ আইডিয়া দিয়ে জানিয়েছেন যে, রিঙ্কু কেন কেকেআরের সেরা অধিনায়ক হতে পারতেন। তাঁর মতে,
১) দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ: রিঙ্কু সিং কেকেআরের ঘরের ছেলে এবং দলের প্রথম একাদশে তাঁর জায়গা পাকা।
২) ব্যাটিং পজিশন: রাহানের মতো রিঙ্কুর ব্যাটিং পজিশন নিয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি মিডল অর্ডার বা ফিনিশার হিসেবে যে কোনোওপজিশনে নেমে দলকে জেতাতে পারেন।
৩) নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা: ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগে এবং উত্তরপ্রদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে রিঙ্কু সাফল্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
৪) ব্যক্তিত্ব: আকাশের মতে, রিঙ্কু কেবল একজন অসাধারণ ক্রিকেটারই নন, একজন খুব ভালো মানুষ হিসেবেও দলের সবার প্রিয়।