Success Story: স্কুলের ফি'র জন্য বাড়ি-বাড়ি কাজ করতেন মা। উৎসবের রাতেও করতেন মা। আর ছেলে সাফিন হাসান প্রথমবারেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস ক্র্যাক করে আইপিএস অফিসার হলেন গুজরাটের পালানপুরের ছেলে।
বাবা-মায়ের লড়াই, আত্মত্যাগ সাফিনদের জন্য

১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সাফিন। তাঁর শৈশব কেটেছে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। সাফিনের বাবা দিনমজুরির কাজ করতেন এবং মা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। একটা সময় দৈনন্দিন খাবারের সংস্থান করাই যেখানে কঠিন হয়ে পড়েছিল, সেখানে সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো তাঁদের জন্য এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আরও পড়ুন: UPSC Success Story: ৩৫ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ফেল, তাতেও হার মানেননি, শেষে IAS অফিসার হলেন সেই বিজয়
কিন্তু সাফিনের মা নসিব বেন হার মানেননি। ছেলেকে অন্তত দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করানোর জন্য তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বাসন মাজা এবং রান্নার কাজ করতেন। এমনকী উৎসবের দিনে বা বিয়ের মরশুমে অতিরিক্ত আয়ের উদ্দেশ্যে করতেন ক্যাটারিংয়ের কাজ।
আরও পড়ুন: Success Story: ৩ বার প্রিলিতে ‘ফেল’, খোঁচা দিতেন আত্মীয়রা, সেই মেয়েই UPSC ক্লিয়ার করে হলেন IAS
সমাজের সহযোগিতা ও শিক্ষার পথপ্রদর্শক
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: Success Story: ৩ বার প্রিলিতে ‘ফেল’, খোঁচা দিতেন আত্মীয়রা, সেই মেয়েই UPSC ক্লিয়ার করে হলেন IAS
সমাজের সহযোগিতা ও শিক্ষার পথপ্রদর্শক
{{/usCountry}}সাফিনের মেধা ও অধ্যবসায় দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে সম্পূর্ণ ফি মকুব করে দেয়। তারপর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সময় আত্মীয়-স্বজনরা এগিয়ে আসেন কলেজের পড়াশোনার খরচ বহনে সাহায্য করতে।
ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও অসুস্থতাও থামাতে পারেনি লক্ষ্য
২০১৬ সালের জুন থেকে সাফিন পূর্ণ উদ্যমে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। সেলফ স্টাডি করতে থাকেন। মেইনস পরীক্ষার ঠিক আগেই মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখ পড়েছিল। ২০১৭ সালে ইউপিএসসি মেইনস পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। গুরুতর চোট পাওয়া সত্ত্বেও ইনজেকশন নিয়ে হুইলচেয়ারে বসে পরীক্ষা দেন। আবার ইন্টারভিউয়ের মাত্র কয়েকদিন আগে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
আরও পড়ুন: Success Story: সাইকেল চালিয়ে করতেন ডেলিভারি, দুর্ঘটনার পরে পালটায় ছবি, লাখ-লাখ টাকা আয় যুবকের
কিন্তু জীবনের কোনও প্রতিকূলতাই তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। তারপরও ২০১৭ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ৫৭০ তম স্থান অধিকার করেন। একইসঙ্গে গুজরাট পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।