UPSC Civil Services Success Story: দৃঢ় ইচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম আর লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠা থাকলে যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিকেও যে জয় করা সম্ভব, তার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিহারের রীতিকা পাণ্ডে। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বাজিমাত করেছেন। তাঁর বাবা সঞ্জয় পাণ্ডে স্থানীয় বিভিন্ন দোকানে পণ্য বহনের জন্য সাধারণ ক্যারিব্যাগ সরবরাহ করার একটি ছোট ব্যবসা করতেন। আর্থিক অনটন ছিল তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে তাতে দমে যাননি রীতিকা। বাজিমাত করেন সেখান থেকেই।
শিক্ষাজীবন ও দিল্লির পথ চলা
পরিবাবের সঙ্গে রীতিকা পান্ডে। (ফাইল ছবি)
{{^htLoading}} {{/htLoading}}
রীতিকার প্রাথমিক শিক্ষার সূচনা হয়েছিল ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে। তিনি ২০১৬ সালে রাঁচির স্কুল থেকে দশম শ্রেণি এবং ২০১৮ সালে একই স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। স্কুলজীবনেই পড়াশোনায় নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। এরপর উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে তিনি পাড়ি দেন দিল্লিতে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২১ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন রীতিকা।
রীতিকার মতে, গ্র্যাজুয়েশন বা স্নাতক স্তরের পড়াশোনা করার সময় থেকেই ইউপিএসসি সর্বদা তাঁর প্রথম কেরিয়ার বিকল্প বা 'প্ল্যান এ' ছিল। তিনি অন্য কোনও বিকল্প চাকরির কথা মাথাতেই আনেননি। স্নাতক শেষ করে তিনি কোনও বড় শহরে কোচিং সেন্টারে না গিয়ে, পুনরায় রাঁচিতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। ঘরে বসেই কঠোর সেলফ-স্টাডির মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর কঠিন লড়াই।
ইউপিএসসির এই দীর্ঘ ও ধৈর্য্যের পরীক্ষায় রীতিকার জয় প্রথমবারে আসেনি। প্রথম অ্যাটেম্পটে কেবল প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয় অ্যাটেম্পটে তিনি নিজের খামতিগুলো দূর করে ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছে যান, কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যবশত চূড়ান্ত মেরিট লিস্টে তাঁর নাম স্থান পায়নি। একদম শেষ ধাপে এসে এই ধরণের ব্যর্থতা যে কোনও মানুষের মানসিক মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু রীতিকা দমে যাননি। তাঁর বাবা-মা এই কঠিন সময়ে তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেননি, বরং নতুন উদ্যমে লড়াই করার সাহস জুগিয়েছেন। অবশেষে নিজের তৃতীয় প্রচেষ্টায় সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেন রীতিকা।
অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা:
নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা:
অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।