UPSC Civil Services Success Story: ছয়বারের চেষ্টায় ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বাজিমাত করেছেন মনোজ রামচন্দ্র পাটিল। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার ছোট্ট গ্রাম জালিহালের ছেলে মনোজ ২০২৫ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় ৪৯৩ তম স্থান অর্জন করেন। আর সেই জালিহাল কোনও সাধারণ গ্রাম নয়। প্রতি বছর এখানকার খরা মানুষের জীবন নির্ধারণ করে। চাষের জন্য জল নেই, কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই, তাই প্রতি বছর অনেক পরিবার আখ কাটার জন্য অন্য অঞ্চলে চলে যায়। গ্রামে শিক্ষার সুবিধা কেবল চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর শিশুদের বাইরে যেতে হয়। এমন এক পরিবেশে যেখানে জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণ করা কঠিন, ইউপিএসসির মতো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া কোনও অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম নয়।
প্রাথমিক পড়াশোনা জীবন

আর এই কাজটি করেছেন মনোজ। তিনি একটি সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন। তাঁর বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং মা একজন গৃহিণী। তিনি গ্রামের জেলা পরিষদ স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষালাভ করেন। ছোটবেলা থেকেই মনোজ পড়াশোনায় দ্রুত ছিলেন। চতুর্থ ও সপ্তম বৃত্তি পরীক্ষায় তিনি জেলা মেধাতালিকায় জায়গা করে নেন। দশম শ্রেণিতেও শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন তিনি। পরবর্তী পড়াশোনার জন্য তিনি সোলাপুর এবং তারপরে সম্ভাজিনগরে চলে যান। সেখান থেকে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
বাবার দেখানো স্বপ্নেই হাঁটেন মনোজ
মনোজ বলেন, ইউপিএসসির স্বপ্ন প্রথম দেখেছিলেন তাঁর বাবা। তিনি বলেন, ‘বাবা সবসময় বলতেন যে যদি ভালো নম্বর আসে, তবে ইউপিএসসির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই জিনিসটি ধীরে-ধীরে মনোজের মনে স্থির হয়ে গেল এবং একদিন এই স্বপ্ন তার লক্ষ্য হয়ে ওঠে।’
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষে একজন আইএএস অফিসারের বক্তৃতা শোনা মনোজের জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। তিনি বলেন, সেদিন প্রথমবারের মতো তিনি অনুভব করেছিলেন যে তিনিও এই জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন। কয়েকদিন কাজ করার পর তিনি ইউপিএসসির প্রস্তুতিতে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করেন।
{{/usCountry}}ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষে একজন আইএএস অফিসারের বক্তৃতা শোনা মনোজের জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। তিনি বলেন, সেদিন প্রথমবারের মতো তিনি অনুভব করেছিলেন যে তিনিও এই জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন। কয়েকদিন কাজ করার পর তিনি ইউপিএসসির প্রস্তুতিতে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করেন।
{{/usCountry}}ব্যর্থতার পরে কীভাবে সাফল্য এল?
সবমিলিয়ে ছয়বার ইউপিএসসি পরীক্ষায় দিয়েছিলেন মনোজ। প্রতিটি ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। বরং তাঁকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। অবশেষে ২০২৫ সালে তাঁর কঠোর পরিশ্রম ফলপ্রসূ হয়েছিল। তিনি কেবল ঐচ্ছিক বিষয়ের জন্য কোচিং নিয়েছিলেন, বাকিটা স্ব-অধ্যয়ন থেকে করেছিলেন। প্রতিদিন আট থেকে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করা তার প্রতিদিনের রুটিনের অংশ ছিল। দিল্লির পরিবেশ, খাবার এবং আবহাওয়া তাঁর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল, তবে তিনি নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: UPSC Success Tips: কোচিং ছাড়াই UPSC-তে বাজিমাত ২১ বছরের তরুণীর, র্যাঙ্ক হল ৬১, কীভাবে প্রস্তুতি?
প্রথম মেইনে কম নম্বর পাওয়ার পরে মনোজ বুঝতে পেরেছিলেন যে ইউপিএসসি সঠিক কৌশলের খেলা। প্রস্তুতিতে বড় পরিবর্তন এনেছিলেন। কীভাবে উত্তর লিখতে হবে, গ্রুপ ডিসকাশন, স্বচ্ছ ধারণা থাকা এবং টপারদের টিপস, সেই সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের কৌশল পরিবর্তন করে নিয়েছিলেন। যা তাঁর সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই রেশ ধরে মনোজ পরামর্শ দিয়েছেন যে স্বচ্ছ এবং স্মার্ট স্টাডি প্রয়োজন। তাঁর মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যার হচ্ছে তথ্যের বিস্ফোরণ। সেজন্য সঠিক জিনিস পড়া গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছুই পড়তে হবে না।