UPSC Civil Services Success Tips: ৩৫ পরীক্ষায় ফেল, তারপরও কীভাবে UPSC সিভিল সার্ভিসে বাজিমাত? টিপস অফিসার বিজয়ের
UPSC Civil Services Success Tips: বিজয় বর্ধনের কাহিনী আমাদের শেখায় যে, ব্যর্থতা মানেই জীবনের শেষ নয়। বরং প্রতিটি ব্যর্থতা হল সাফল্যের এক-একটি ধাপ। ৩৫ বার হেরে গিয়েও যিনি আইএএস হতে পারেন, তাঁর কাছে হার না মানার মানসিকতাই হল আসল শক্তি।
UPSC Civil Services Success Tips: সাফল্য মানেই কি প্রথম প্রচেষ্টায় জয়? নাকি বারবার আছাড় খেয়েও আবার উঠে দাঁড়ানোর নামই সাফল্য? হরিয়ানার সিরসা জেলার বিজয় বর্ধনের জীবন কাহিনী শুনলে দ্বিতীয় কথাটিই সত্যি বলে মনে হবে। আজকের দিনে যেখানে একটি বা দুটি পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভেঙে পড়েন, সেখানে বিজয় বর্ধন একে-একে ৩৫টি সরকারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু দমে যাননি তিনি। তার এই অদম্য জেদই তাঁকে শেষপর্যন্ত ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে একজন আইএএস অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রাথমিক জীবন ও স্বপ্ন দেখার শুরু
বিজয়ের জন্ম হরিয়ানার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। প্রাথমিক শিক্ষা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর অনেকের মতোই তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি সুরক্ষিত সরকারি চাকরি। ২০১৪ সালে তিনি ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপরই শুরু হয় তার আসল লড়াই। দিল্লির মুখার্জি নগরে এসে তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু সেইসময় তিনি হয়তো কল্পনাও করেননি যে তাঁকে কতটা কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে।
ব্যর্থতার পাহাড় এবং ৩৫টি হার
বিজয় যখন ইউপিএসসির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন অন্যান্য সরকারি পরীক্ষাও দিচ্ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস এমনই ছিল যে, তিনি যে পরীক্ষায় বসতেন, সেখানেই ব্যর্থতা আসত। হরিয়ানা সিভিল সার্ভিস, এসএসসি (SSC), রেলওয়ে, এমনকী বিভিন্ন ব্যাঙ্কের নিয়োগ পরীক্ষাতেও তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি। হিসাব করলে দেখা যায়, তিনি ছোটো-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৫টি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন।
সাধারণ কোনও মানুষ হলে হয়তো এই পর্যায়ে এসে হাল ছেড়ে দিতেন। পরিবার এবং সমাজের চাপ তো ছিলই, তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল নিজের ওপর বিশ্বাস হারানোর ভয়। কিন্তু বিজয় ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি মনে করতেন, প্রতিটি ব্যর্থতা তাকে কিছু না কিছু শেখাচ্ছে।
UPSC-তে বারবার হোঁচট
শুধুমাত্র অন্য সরকারি পরীক্ষা নয়, ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাতেও তাঁর শুরুটা মসৃণ ছিল না। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে পরপর দু'বার তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেই পাশ করতে পারেননি। ২০১৬ সালে তিনি প্রিলিমিনারি এবং মেইনস পাশ করলেও ইন্টারভিউ বা ব্যক্তিত্ব পরীক্ষায় গিয়ে মাত্র কয়েক নম্বরের জন্য বাদ পড়েন। ২০১৭ সালের পরীক্ষায় প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। মাত্র ছয় নম্বরের জন্য তাঁর নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়।
আরও পড়ুন: UPSC Success Tips: কোচিং ছাড়াই UPSC-তে বাজিমাত ২১ বছরের তরুণীর, র্যাঙ্ক হল ৬১, কীভাবে প্রস্তুতি?
ঘুরে দাঁড়ানো এবং চূড়ান্ত জয়
বারবার স্বপ্নভঙ্গের বেদনা সহ্য করেও বিজয় ২০১৮ সালে আবারও ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন। এটি ছিল তাঁর পঞ্চম প্রচেষ্টা। আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং নিজের দুর্বলতাগুলো সংশোধন করে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন। অবশেষে ২০১৮ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফলাফলে তাঁর নাম জ্বলজ্বল করে ওঠে। সর্বভারতীয় স্তরে ১০৪ তম র্যাঙ্ক করে তিনি আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্নপূরণ করেন। বর্তমানে তিনি উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের একজন আইএএস অফিসার হিসেবে কর্মরত।
আরও পড়ুন: UPSC Success Story: সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরি করতে-করতেই UPSC, র্যাঙ্ক ১৬, টিপস দিলেন মনিকা?
সাফল্যের মন্ত্র: শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তা
বিজয়ের এই জীবন সংগ্রাম বর্তমান সময়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। তার মতে, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করার জন্য কেবল মেধাই যথেষ্ট নয়, বরং ধৈর্য এবং মানসিক দৃঢ়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
১) ধৈর্য ধরুন: কোনো বড় লক্ষ্য অর্জন করতে সময় লাগতে পারে। ধৈর্য হারানো চলবে না।
২) ভুল থেকে শিক্ষা: কেন ব্যর্থ হচ্ছেন, তা বিশ্লেষণ করুন এবং পরবর্তী সময়ে সেই ভুলগুলো শুধরে নিন।
৩) আত্মবিশ্বাস: চারপাশের নেতিবাচক কথা কান না দিয়ে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা জরুরি।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


