UPSC Civil Services Topper: বিশাল বড় অঙ্কের চাকরি ছিল। কিন্তু সেই চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের মাধ্যমে দেশের প্রশাসনের অংশ হয়ে উঠে হয়েছেন কনিষ্ক কাটারিয়া। আইআইটি বম্বে থেকে পড়াশোনা শেষ করে বিদেশের মাটিতে কোটি টাকার বার্ষিক প্যাকেজের চাকরি ছেড়ে তিনি ফিরে এসেছিলেন দেশের সেবায়। তাঁর এই সিদ্ধান্ত এবং প্রথমবারেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকার করার গল্প আজ সারা ভারতের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আকাশছোঁয়া বেতন বনাম দেশসেবার স্বপ্ন

কনিষ্ক পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন। আইআইটি বম্বের মতো প্রথমসারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বি.টেক ডিগ্রি অর্জনের পর তাঁর কেরিয়ারের পথ ছিল অত্যন্ত মসৃণ। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বহুজাতিক সংস্থায় তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা। কিন্তু বিদেশের বিলাসবহুল জীবন এবং বড় অঙ্কের চেক তাঁর মনের তৃপ্তি মেটাতে পারছিল না। তাঁর মনে হয়েছিল, এই কাজের মাধ্যমে তিনি নিজের উন্নতি করলেও দেশের মানুষের জন্য সরাসরি কিছু করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এই 'পারপাস ওভার পে' বা অর্থের চেয়ে উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতাই তাঁকে ফিরিয়ে আনে ভারতে।
কঠিন যাত্রার শুরু
বিদেশের নামী চাকরি ছেড়ে সিভিল সার্ভিসের মতো কঠিন পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ছিল অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ কয়েক বছর প্রস্তুতির পর ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু কনিষ্ক ছিলেন স্থিরপ্রতিজ্ঞ। তিনি যখন প্রস্তুতি শুরু করেন, তখন তাঁর লক্ষ্য ছিল কেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নয়, বরং নিজের সেরাটা দেওয়া। তিনি তাঁর কোচিং এবং সেলফ স্টাডির মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন। কনিষ্কর মতে, সিভিল সার্ভিসে সাফল্যের জন্য আইকিউয়ের চেয়েও বড় প্রয়োজন ধৈর্য এবং শৃঙ্খলা।
{{/usCountry}}বিদেশের নামী চাকরি ছেড়ে সিভিল সার্ভিসের মতো কঠিন পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ছিল অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ কয়েক বছর প্রস্তুতির পর ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু কনিষ্ক ছিলেন স্থিরপ্রতিজ্ঞ। তিনি যখন প্রস্তুতি শুরু করেন, তখন তাঁর লক্ষ্য ছিল কেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নয়, বরং নিজের সেরাটা দেওয়া। তিনি তাঁর কোচিং এবং সেলফ স্টাডির মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন। কনিষ্কর মতে, সিভিল সার্ভিসে সাফল্যের জন্য আইকিউয়ের চেয়েও বড় প্রয়োজন ধৈর্য এবং শৃঙ্খলা।
{{/usCountry}}প্রথমবারেই বাজিমাত: অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ১
২০১৮ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফলাফল যখন প্রকাশিত হয়, তখন দেখা যায় কনিষ্ক কাটারিয়া কেবল সফলই হননি, তিনি সারা ভারতে প্রথম স্থান (AIR 1) অধিকার করেছেন। তাঁর ঐচ্ছিক বিষয় ছিল গণিত। সাধারণত ইউপিএসসিতে মানবিক বিভাগের বিষয়গুলো জনপ্রিয় হলেও কনিষ্ক নিজের শক্তির ওপর ভরসা রেখেছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় তিনি ৯৪২ এবং ইন্টারভিউতে ১৭৯ নম্বর-সহ মোট ১১২১ নম্বর পেয়েছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে প্রথম চেষ্টাতেই টপার হওয়া এক অভাবনীয় সাফল্য।
অনুপ্রেরণার অন্য নাম
সাফল্যের পর কনিষ্ক জানিয়েছিলেন, তাঁর এই সাফল্যের পিছনে পরিবারের সমর্থন এবং কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেও সঠিক মানসিকতা থাকলে প্রশাসনিক সেবায় শীর্ষস্থানে পৌঁছানো সম্ভব। বর্তমানে কনিষ্ক রাজস্থান ক্যাডারের একজন আইএএস (IAS) অফিসার হিসেবে কাজ করছেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।