UPSC Success Story: সাধারণত বলা হয়, সুযোগ শেষ হয়ে গেলে স্বপ্নও শেষ হয়ে যায়। কিন্তু অংশুমান কুমার সিং প্রমাণ করেছেন যে, লক্ষ্য যদি স্থির থাকে তবে একটি দরজা বন্ধ হলে অন্যটি খুলে যায়। দীর্ঘ ১১ বছরের কঠোর পরিশ্রম, ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কঠিন ডিউটি এবং বারবার ব্যর্থতা সামলে অবশেষে ২০২৫ সালের UPSC ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (IFS) পরীক্ষায় সর্বভারতীয় দ্বিতীয় স্থান (AIR 2) অধিকার করেছেন তিনি।
কোস্ট গার্ডের চাকরির সঙ্গে কঠিন প্রস্তুতি

ঝাড়খণ্ডের কোডারমা জেলার ঝুমরি তিলাইয়ার আদি বাসিন্দা অংশুমান গত ১০ বছর ধরে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে কর্মরত। ২০১৬ সালে যখন তিনি প্রথমবার ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস দেওয়ার কথা ভাবেন, তখন তার সামনে ছিল দেশের প্রতি গুরুদায়িত্ব। দিনভর ডিউটি সামলে পড়ার সময় পাওয়া ছিল দুষ্কর। অনেক সময় প্রিলিমস পাশ করতে পারেননি, কখনও ডিউটির চাপে পরীক্ষা দিতে পারেননি। কিন্তু হার মানা তাঁর স্বভাবে ছিল না।
যখন সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল
অংশুমানের জীবনের সবথেকে বড় মোড় আসে ২০২৪ সালে। সেই বছর তিনি প্রথমবারের মতো সিভিল সার্ভিস মেইনস পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন। মনে হয়েছিল স্বপ্নপূরণ সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কিন্তু রেজাল্ট আসতেই সব ওলটপালট হয়ে যায়—তালিকায় নাম ছিল না। সেইসঙ্গে তাঁর সিভিল সার্ভিস দেওয়ার সবকটি অ্যাটেম্পট শেষ হয়ে যায়। যে কোনও পরীক্ষার্থীর কাছে এটি ভেঙে পড়ার মতো মুহূর্ত, কিন্তু অংশুমান ঠিক এই সময়েই জানতে পারেন যে 'ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস' বা আইএফএসেরর সুযোগ এখনও বাকি আছে। বয়সের শেষ সীমায় দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর শেষ সম্বলটুকু দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আর সেই শেষ প্রচেষ্টাই ইতিহাস তৈরি করে।
সাফল্যের নেপথ্যে থাকা কৌশল
{{/usCountry}}সাফল্যের নেপথ্যে থাকা কৌশল
{{/usCountry}}অংশুমান জানিয়েছেন, তিনি কখনও তথ্যের পাহাড় জমাননি। বরং সীমিত রিসোর্সকে বারবার রিভিশন দেওয়াকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন জিওলজি এবং এগ্রিকালচার। টেকনিক্যাল বিষয়ে উত্তরের নির্ভুলতা তাঁকে অন্যদের থেকে এগিয়ে দিয়েছিল। কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি নিজের নোটস তৈরি করতেন এবং পুরনো বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করতেন।
পরিবারের সমর্থন ও অনুপ্রেরণা
অংশুমানের এই সাফল্যে তাঁর পরিবার বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। তার বাবা বিনয় কুমার সিং আজ জীবিত নেই। কিন্তু তাঁর আদর্শই অংশুমানকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। মা সুনীতা দেবী প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতিতে ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী অংশুমান স্কুল জীবনেও জেলা টপার ছিলেন এবং দিল্লির রামজাস কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
ইন্টারভিউয়ের সেই বিশেষ উত্তর
ইন্টারভিউ বোর্ডে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, কোস্ট গার্ডের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসায় তিনি কি বন বিভাগে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করবেন? অংশুমান শান্তভাবে উত্তর দিয়েছিলেন যে, বনাঞ্চলের আদিবাসী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গেলে শৃঙ্খলার চেয়েও সহানুভূতি বেশি প্রয়োজন। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে সেরাদের তালিকায় জায়গা করে নিতে সাহায্য করেছে।