Stroke Symptoms and Prevention Tips: অনেক দিন ধরেই আমাদের সমাজে একটি বদ্ধমূল ধারণা প্রচলিত ছিল যে, স্ট্রোক কেবল বার্ধক্যজনিত একটি রোগ। বয়সের ভারেই নাকি মস্তিষ্কের রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য সমীক্ষার তথ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরছে। বর্তমানে ২০, ৩০ ও ৪০ বছরের মানুষরাও স্ট্রোকের শিকার হচ্ছেন। সেরকম কোনও লক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ করেই চুরমার হয়ে যাচ্ছে অনেকের ভবিষ্যৎ।
বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবসে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

আজ বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবসে মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট বৈভব শেঠ জানিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের তরফে যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বিশ্বজুড়ে ২৫ বছরের বেশি বয়সি প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে একজনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আরও মারাত্মক বিষয় হল, ভারতে মোট স্ট্রোক আক্রান্তের প্রায় ১৪ শতাংশের বয়সই ৪৫-র কম। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট যে অল্প বয়স ভেবে কোনওরকমভাবেই হেলাফেলা করা যাবে না স্ট্রোককে।
চিকিৎসকের মতে, কম বয়সে স্ট্রোক হলে শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব, আর্থিক স্থিতি এবং জীবনযাত্রার মানও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। তবে ভালো ব্যাপারটা হল যে, সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে অনেক ক্ষেত্রেই স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্ট্রোক আসলে কী?
মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট জানিয়েছেন, মস্তিষ্কের কোনও অংশে হঠাৎ রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে অথবা রক্তনালি ফেটে গেলে স্ট্রোক হয়। রক্তের সঙ্গে অক্সিজেন ও পুষ্টি না পৌঁছালে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্রোক হল একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, তত বেশি মস্তিষ্ককে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।
কেন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ছে?
{{/usCountry}}মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট জানিয়েছেন, মস্তিষ্কের কোনও অংশে হঠাৎ রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে অথবা রক্তনালি ফেটে গেলে স্ট্রোক হয়। রক্তের সঙ্গে অক্সিজেন ও পুষ্টি না পৌঁছালে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্রোক হল একটি মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, তত বেশি মস্তিষ্ককে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।
কেন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্ট্রোক বাড়ছে?
{{/usCountry}}তাঁর মতে, বর্তমানে জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এর অন্যতম কারণ। দীর্ঘক্ষণ কাজ, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চার অভাবের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা বাড়ছে। এগুলো স্ট্রোকের বড় ঝুঁকির কারণ।
তাছাড়া ধূমপান, তামাক, অতিরিক্ত মদ্যপান, মাদক গ্রহণ এবং ভ্যাপিং রক্তনালির ক্ষতি করে স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। কোনও কনও ক্ষেত্রে বংশগত কারণ, জন্মগত হৃদরোগ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা পরিবারে স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলেও ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই অল্প বয়সেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।
স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?
১) মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্টের মতে, ক্লান্তি, মানসিক চাপ বা মাইগ্রেনকে অনেকেই স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ ভেবে গুরুত্ব দেন না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়।
২) হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা বলতে অসুবিধা হওয়া, হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা অথবা তীব্র মাথাব্যথা - এই লক্ষণগুলিকে কখনও অবহেলা করবেন না।
৩) লক্ষণ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেরে গেলেও তা ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) বা 'মিনি স্ট্রোক' হতে পারে, যা বড় স্ট্রোকের পূর্বাভাস হতে পারে।
স্ট্রোকের লক্ষণ মনে রাখার সহজ উপায় হল BE FAST
১) B – Balance: হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
২) E – Eyes: হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন
৩) F – Face: মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া
৪) A – Arm: এক হাত বা শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
৫) S – Speech: কথা জড়িয়ে যাওয়া বা বলতে সমস্যা হওয়া
৬) T – Time: সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান
প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের একটি প্রচলিত কথা হল - ‘Time is Brain’। কারণ স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পরে চিকিৎসা না পেলে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লাখ মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে রক্ত জমাট গলানোর ওষুধ এবং আধুনিক ন্যূনতম অস্ত্রোপচার পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক স্ট্রোক রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে লক্ষণ পরিলক্ষিত হওয়ার প্রাথমিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয । তাই দেরি করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
স্ট্রোক কি প্রতিরোধ করা সম্ভব?
মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট একেবারে স্পষ্টভাষায় বলেছেন, ‘অবশ্যই। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই স্ট্রোক প্রতিরোধ করা যায়। এর জন্য নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, তামাক ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা, প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা ভালো ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। যাঁদের পরিবারে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।'
তাঁর পরামর্শ, ‘বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবসে আমাদের সবার কাছে একটাই বার্তা- স্ট্রোক আর শুধু প্রবীণদের রোগ নয়। এটি এখন তরুণদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে। স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন, কোনও লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে নিকটবর্তী হাসপাতালে যান এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে দৈনন্দিন অভ্যেসে পরিণত করুন। মনে রাখবেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট মূল্যবান। সময়মতো চিকিৎসা শুধু জীবনই বাঁচায় না, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকেও রক্ষা করে।’