এ বছর কবে রামের জন্মোৎসব রামনবমী? জানুন শুভক্ষণ, তিথি এবং সঠিক পুজোর পদ্ধতি
শ্রীরামচন্দ্রকে বলা হয় ‘মর্যাদা পুরুষোত্তম’। তাঁর জন্মোৎসব কবে পালন করা হবে? রামনবমীর তিথি ও পুজোর সময় জেনে নিন।
হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র এবং আনন্দময় একটি উৎসব হলো রামনবমী। ত্রেতা যুগে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে অযোধ্যায় রাজা দশরথ ও রানি কৌশল্যার ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য বিষ্ণুর সপ্তম অবতার হিসেবে তাঁর এই ধরায় আগমন। প্রতি বছর চৈত্র নবরাত্রির নবম দিনে ভারতের কোণায় কোণায় পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে এই উৎসব পালিত হয়।

শ্রীরামচন্দ্রকে বলা হয় ‘মর্যাদা পুরুষোত্তম’। তাঁর জীবন ও আদর্শ আজও কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা। ২০২৬ সালে চৈত্র নবরাত্রির শেষ দিনে পালিত হবে এই মহাপুণ্যতিথি।
(আরও পড়ুন: রামনবমীতেই ভাগ্য খুলে যাবে এই তিন রাশির! আসবে টাকা, সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরবে পরিবার)
২০২৬ সালে রামনবমী কবে?
পঞ্জিকা ও হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রামনবমী পালিত হবে ২৭ মার্চ, শুক্রবার। চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিটি এই দিনে পড়ছে। এই দিনটিতেই নয় দিন ব্যাপী চৈত্র নবরাত্রির সমাপ্তি ঘটে।
পুজোর শুভ সময় ও তিথি (Ram Navami 2026 Timing)
শাস্ত্র মতে, ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল মধ্যাহ্ন কালে অর্থাৎ দুপুরের সময়। তাই রামনবমীর পুজো দুপুর বেলাতেই করা প্রশস্ত।
- নবমী তিথি শুরু: ২৬ মার্চ, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা থেকে।
- নবমী তিথি সমাপ্ত: ২৭ মার্চ, ২০২৬ (শুক্রবার) বিকেল পর্যন্ত।
- পুজোর শুভ মাহেন্দ্রক্ষণ: ২৭ মার্চ সকাল ১১:০০টা থেকে দুপুর ১:৩০টার মধ্যে রামলালার পুজো করা অত্যন্ত শুভ বলে গণ্য করা হচ্ছে।
(আরও পড়ুন: আর মাত্র ক'দিন পর অন্নপূর্ণা পুজো, জেনে নিন দেবী মাহাত্ম্যের অজানা কাহিনি)
রামনবমীর পুজোর পদ্ধতি (Puja Vidhi)
রামনবমীর পুজো অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করা উচিত। বাড়িতে বা মন্দিরে এই দিনটি কীভাবে পালন করবেন, তার একটি সহজ নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. শুচিতা ও সংকল্প: রামনবমীর দিন সকালে ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করুন। এরপর পুজোর স্থানে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করে নিন এবং ভগবান রামের সামনে বসে পুজোর সংকল্প করুন।
২. অভিষেক: কাঠের পিঁড়িতে লাল কাপড় বিছিয়ে রাম দরবার (রাম, সীতা, লক্ষ্মণ ও হনুমান) বা শ্রীরামের মূর্তি স্থাপন করুন। পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি) এবং গঙ্গাজল দিয়ে মূর্তিকে স্নান করান।
৩. শোভন সাজ: নতুন বস্ত্র অর্পণ করে চন্দন, অক্ষত (আতপ চাল), তুলসী পাতা এবং মরশুমী ফুল দিয়ে সাজান। মনে রাখবেন, বিষ্ণু অবতারের পুজোয় তুলসী পাতা আবশ্যিক।
৪. ভোগ নিবেদন: শ্রীরামচন্দ্রের প্রিয় নৈবেদ্য যেমন ক্ষীর, ফল এবং বিশেষ করে ‘পানাম’ (গুড় ও গোলমরিচ দিয়ে তৈরি পানীয়) ও উত্তর ভারতে প্রচলিত ‘পুরি-হালুয়া’ ভোগ হিসেবে দিন।
৫. পাঠ ও সংকীর্তন: এই দিনটিতে ‘রামচরিতমানস’ পাঠ বা ‘রাম রক্ষা স্তোত্র’ পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক। ‘ওঁ শ্রী রামায় নমঃ’ মন্ত্র জপ করুন।
৬. আরতি: ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে ভক্তিভরে আরতি করুন এবং পরিশেষে প্রসাদ বিতরণ করুন।
(আরও পড়ুন: অক্ষয় তৃতীয়া কবে? এদিন সোনা-রূপো কেনার শুভ সময় কোনটি? দেখে নিন)
রামনবমীর তাৎপর্য
রামনবমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের জয়ের প্রতীক। এই দিনে উপবাস রাখলে এবং ভক্তিভরে পুজো করলে মনে সুখ-শান্তি বজায় থাকে এবং নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। ভক্তরা এই দিনে রামনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে নিজেদের শুদ্ধ করেন। অনেক জায়গায় এই দিনে শোভাযাত্রা বা রথযাত্রার আয়োজন করা হয়।
(আরও পড়ুন: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, শুক্রের গোচরে মালামাল হবে এই তিন রাশি! হবে সুখের বৃষ্টি)
ভগবান রামের জীবন আমাদের ধৈর্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং সত্যের পথে চলার শিক্ষা দেয়। ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই উৎসব পালন করে আপনার জীবনকে মঙ্গলাময় করে তুলুন।
E-Paper

