...
...
Next Story

আলোর গতি তো জানেন, অন্ধকারের গতি কত জানেন কি? নতুন আবিষ্কার চমকে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের! বদলে যেতে পারে অনেক হিসাব

আলোর চেয়েও দ্রুত কি অন্ধকার? আইনস্টাইনের নিয়ম না ভেঙেই মহাবিশ্বের গতির সীমা অতিক্রমের রহস্য খুঁজে বার করা কি সম্ভব? বিজ্ঞানীরা যা খুঁজে পেলেন, তাতে বদলে যেতে পারে অনেক হিসাব।

Published on: Mar 29, 2026, 08:14:57 IST
Advertisement

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি ধ্রুব সত্য হলো—মহাবিশ্বে আলোর চেয়ে দ্রুত কোনো কিছুই চলতে পারে না। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, শূন্যস্থানে আলোর গতিবেগ হলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। কিন্তু সম্প্রতি একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিজ্ঞানপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনটি বলছে, অন্ধকার (Darkness) বা ছায়া আলোর চেয়েও দ্রুত গতিতে চলতে পারে, এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো এটি আইনস্টাইনের কোনো নিয়মই ভঙ্গ করে না!

আলোর গতি তো জানেন, অন্ধকারের গতি কত জানেন কি? খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা
আলোর গতি তো জানেন, অন্ধকারের গতি কত জানেন কি? খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞানের জগতে আমরা জানি, আলোর গতিই সর্বোচ্চ। কিন্তু যদি বলা হয় 'অন্ধকার' আলোকে ছাড়িয়ে যেতে পারে? প্রথম শুনলে এটি কল্পবিজ্ঞানের মতো মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের এক চমৎকার কৌশল। বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, কীভাবে বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্ধকার বা ছায়ার গতি আলোর বেগকে অতিক্রম করতে পারে এবং কেন এতে মহাবিশ্বের কোনো মৌলিক নিয়ম লঙ্ঘিত হয় না।

(আরও পড়ুন: এত যুদ্ধ-রাজনীতি, এত আবিষ্কার! তবু মানুষের ইতিহাস এখনও ‘বাচ্চা’, ডাইনোসরদের পৃথিবী শাসন করার সময়ের তুলনায়, বলছে গবেষণা)

অন্ধকার আসলে কী?

পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় অন্ধকার কোনো 'বস্তু' বা 'শক্তি' নয়। এটি কেবল আলোর অনুপস্থিতি। যখন কোনো বস্তু আলোর উৎসকে বাধা দেয়, তখন সেই বস্তুর পেছনে ছায়া তৈরি হয়। যেহেতু অন্ধকার কোনো কণা (যেমন ফোটন) বা তথ্য বহনকারী তরঙ্গ নয়, তাই এর গতির ওপর পদার্থবিজ্ঞানের প্রচলিত গতির সীমা বা 'স্পিড লিমিট' কার্যকর হয় না।

একটি সহজ উদাহরণের মাধ্যমে এটি বোঝা সম্ভব। মনে করুন, আপনি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী লেজার লাইট চাঁদের দিকে তাক করে আছেন। এখন আপনি যদি আপনার হাতের আঙুল খুব দ্রুত লেজারের সামনে দিয়ে সরিয়ে নেন, তবে চাঁদের বুকে তৈরি হওয়া সেই আঙুলের ছায়াটি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় সরে যাবে।

যদি লেজারটি যথেষ্ট শক্তিশালী হয় এবং আপনার হাতের নড়াচড়া যথেষ্ট দ্রুত হয়, তবে চাঁদের ওপর সেই ছায়ার সরে যাওয়ার গতি আলোর গতিবেগকে (২৯৯,৭৯২ কিমি/সেকেন্ড) ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু কেন? কারণ এখানে কোনো 'বস্তু' বা 'তথ্য' এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভ্রমণ করছে না। এটি কেবল আলোর অনুপস্থিতির একটি জ্যামিতিক প্রতিফলন মাত্র।

(আরও পড়ুন: সল্ট লেকের গভীরে মিলল বিশাল পানীয় জলের আধার, নোনা জলের নিচে মিষ্টির হদিশ! প্রকৃতির খেলায় হতবাক বিজ্ঞানীরা)

আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব কি অক্ষুণ্ণ থাকছে?

আইনস্টাইনের স্পেশাল রিলেটিভিটি অনুযায়ী, কোনো তথ্য (Information) বা ভরসম্পন্ন বস্তু (Mass) আলোর চেয়ে দ্রুত চলতে পারে না। ছায়া যেহেতু কোনো তথ্য বহন করে না এবং এর কোনো ভর নেই, তাই এটি আলোর চেয়ে দ্রুত চললেও মহাবিশ্বের কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয় না। ছায়ার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কোনো সংকেত পাঠানো সম্ভব নয়, তাই এটি পদার্থবিজ্ঞানের গতির সীমার বাইরে থাকে।

(আরও পড়ুন: মহাকাশে সঙ্গম করলে কী হয়? ভবিষ্যতে পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসতি তৈরি করে বংশবিস্তার সম্ভব? অদ্ভুত ঘটনা দেখলেন বিজ্ঞানীরা)

এই ধারণার গুরুত্ব কী?

এই তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাটি মহাকাশ বিজ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাবিশ্বের বিশাল দূরত্বে যখন কোনো বড় মহাজাগতিক বস্তু (যেমন ব্ল্যাক হোল বা গ্যালাক্সি) অন্য কোনো আলোর উৎসকে আড়াল করে, তখন সেই ছায়ার সরণ আমাদের ভ্রম তৈরি করতে পারে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য এটি বোঝা জরুরি যে, দৃশ্যমান গতির সবটাই বাস্তব স্থানান্তর নয়। এই 'সুপারলুমিনাল' বা আলোর চেয়ে দ্রুত গতির বিভ্রম মহাবিশ্বের জ্যামিতিক গঠন বুঝতে সাহায্য করে।

(আরও পড়ুন: এক এক মানুষকে এক এক রকম দেখতে, কিন্তু বাকি প্রাণীদের নিজেদের দলে সকলের মুখ প্রায় এক রকম কেন? রহস্যের সন্ধান পেল বিজ্ঞান)

অন্ধকারের এই অতি-দ্রুত গতি আসলে একটি দৃষ্টিভঙ্গির খেলা। আলো আমাদের মহাবিশ্বের গতির সীমা নির্ধারণ করে ঠিকই, কিন্তু সেই আলোর অনুপস্থিতি বা ছায়া গতির সব শিকল ছিঁড়ে ফেলতে পারে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মহাবিশ্ব যতটা সরল মনে হয়, তার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও অনেক জটিল ও রোমাঞ্চকর সমীকরণ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe