...
...
Next Story

মহাকাশে সঙ্গম করলে কী হয়? ভবিষ্যতে পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসতি তৈরি করে বংশবিস্তার সম্ভব? অদ্ভুত ঘটনা দেখলেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবীর বাইরে কি মানুষের পক্ষে সঙ্গত করা সম্ভব? সেখানে কি বংশবিস্তার হতে পারে? সাম্প্রতিক গবেষণায় অদ্ভুত জিনিস প্রত্যক্ষ করলেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর বাইরে বসতি স্থাপনের আশায় জল ঢেলে দিতে পারে এটি।

Published on: Mar 28, 2026, 10:30:47 IST
Advertisement

মহাকাশ বিজ্ঞান এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, মহাকাশের শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বা মাইক্রোগ্রাভিটি (Microgravity) মানুষের প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মঙ্গল অভিযান বা চাঁদে বসতি স্থাপনের মতো দীর্ঘমেয়াদী মিশনের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মহাকাশে সঙ্গম করলে কী হয়? ভবিষ্যতে পৃথিবীর বাইরে মানুষ থাকতে পারবে কি?
মহাকাশে সঙ্গম করলে কী হয়? ভবিষ্যতে পৃথিবীর বাইরে মানুষ থাকতে পারবে কি?

মানুষ এখন আর কেবল পৃথিবীতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স (SpaceX) থেকে শুরু করে নাসা (NASA)—সবারই লক্ষ্য মঙ্গলে মানব বসতি স্থাপন করা। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহাকাশের পরিবেশে মানুষের বংশবৃদ্ধি করা বা প্রজনন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। মাইক্রোগ্রাভিটি বা অতি-ক্ষুদ্র মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আমাদের শরীরের কোষীয় স্তরে এমন কিছু পরিবর্তন আনে, যা প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

(আরও পড়ুন: সল্ট লেকের গভীরে মিলল বিশাল পানীয় জলের আধার, নোনা জলের নিচে মিষ্টির হদিশ! প্রকৃতির খেলায় হতবাক বিজ্ঞানীরা)

গবেষণার মূল বিষয়: প্রজনন কোষে মাইক্রোগ্রাভিটির প্রভাব

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অভাবে শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে শুক্রাণুর গতিশীলতা (Motility) কমে যায় এবং তাদের গঠনগত পরিবর্তন ঘটে। ফলে স্বাভাবিকভাবে নিষেেক বা ফার্টিলাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া ডিম্বাণুর বিকাশের ক্ষেত্রেও এক ধরণের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গেছে।

গবেষণাটি কেবল নিষেকের ওপর সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভ্রূণের (Embryo) বিকাশের ওপরও আলোকপাত করেছে। মহাকাশে শক্তিশালী মহাজাগতিক বিকিরণ বা কসমিক রেডিয়েশন থাকে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও চৌম্বক ক্ষেত্র আমাদের এই বিকিরণ থেকে রক্ষা করে, কিন্তু মহাকাশে সেই সুরক্ষা নেই। এই বিকিরণ ভ্রূণের ডিএনএ-তে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে জন্মগত ত্রুটি বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

(আরও পড়ুন: এত যুদ্ধ-রাজনীতি, এত আবিষ্কার! তবু মানুষের ইতিহাস এখনও ‘বাচ্চা’, ডাইনোসরদের পৃথিবী শাসন করার সময়ের তুলনায়, বলছে গবেষণা)

কেন এই গবেষণাটি মহাকাশ মিশনের জন্য জরুরি?

বর্তমানে নাসা 'আর্টেমিস' মিশনের মাধ্যমে চাঁদে এবং পরবর্তীতে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যদি মানুষ সেখানে দীর্ঘস্থায়ী বসতি গড়তে চায়, তবে সেখানে স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া অত্যন্ত আবশ্যক। কিন্তু এই নতুন তথ্য বলছে যে, বর্তমান প্রযুক্তিতে মহাকাশে একটি সুস্থ মানব শিশু জন্ম দেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মহাকাশযানের ভেতরে কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ (Artificial Gravity) তৈরি করা না গেলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

ভবিষ্যতে পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসতি তৈরি করে বংশবিস্তার সম্ভব?

(আরও পড়ুন: দেখে তো কুমির বলেই মনে হয়, কিন্তু পাগুলো কুকুরের মতো! ভয়ঙ্কর শিকারির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা)

হরমোনের ভারসাম্য ও শারীরিক পরিবর্তন

দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকলে মানুষের হরমোন নিঃসরণে অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন এবং টেস্টোস্টেরনের মতো প্রজনন হরমোনগুলোর মাত্রা বদলে যায়। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় এবং পেশি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি প্রজনন অঙ্গের রক্ত সঞ্চালনও ব্যাহত হয়, যা সামগ্রিকভাবে একজন মহাকাশচারীর প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

(আরও পড়ুন: গোবি মরুভূমিতে মিলল ডাইনোসর যুগের ১ সেন্টিমিটার জীবাশ্ম! বিজ্ঞানীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এটি)

মহাকাশ জয় করা আমাদের স্বপ্ন হলেও, জীববিজ্ঞানের এই সীমাবদ্ধতাগুলো এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। মাইক্রোগ্রাভিটি মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষকে প্রভাবিত করে। সুতরাং, ভিনগ্রহে পাড়ি জমানোর আগে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে সেখানে মানব প্রজাতি টিকে থাকার মতো অনুকূল জৈবিক পরিবেশ রয়েছে কি না। বিজ্ঞানের এই নতুন সতর্কবার্তা আমাদের মহাকাশ অভিযানের পরিকল্পনাগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত করতে সাহায্য করবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe