...
...
Next Story

সকলের নয়, চলন্ত গাড়িতে কারও কারও বমি পায়, পূর্বপুরুষদের বিষাক্ত খাবার খাওয়ার ভুলে এই সমস্যা! বলছে বিজ্ঞান

চলন্ত গাড়িতে অনেকেরই বমি পায়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি যিনি গাড়িটি চালাচ্ছেন, তাঁর বমি পায় না কেন? এর উত্তর দিতে পেরেছে বিজ্ঞান। জেনে নিন কী বলা হচ্ছে।

Published on: Mar 19, 2026, 09:40:46 IST
Advertisement

গাড়িতে উঠলে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা বাসে যাতায়াতের সময় শরীর খারাপ হওয়া—আমাদের অনেকের কাছেই এটি একটি অতি পরিচিত সমস্যা। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় মোশন সিকনেস (Motion Sickness)। কেন আমাদের শরীর চলন্ত অবস্থায় এমন অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা বিবর্তনের রহস্য কী।

সকলের নয়, চলন্ত গাড়িতে কারও কারও বমি পায়, পূর্বপুরুষদের বিষাক্ত খাবার খাওয়ার ভুলে এই সমস্যা! বলছে বিজ্ঞান
সকলের নয়, চলন্ত গাড়িতে কারও কারও বমি পায়, পূর্বপুরুষদের বিষাক্ত খাবার খাওয়ার ভুলে এই সমস্যা! বলছে বিজ্ঞান

ছুটির দিনে দূরে কোথাও ভ্রমণে বেরিয়েছেন, কিন্তু গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হলো অস্বস্তি। মাথা ঘোরা, ঘাম হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত বমি। এই সমস্যাটি কেবল আপনার একার নয়, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মোশন সিকনেসের শিকার। কিন্তু কেন সুস্থ শরীরে হঠাৎ এমন অসুস্থতা দেখা দেয়? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর কারণ আপনার চোখ এবং কানের মাঝখানের এক মারাত্মক ‘যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা’।

(আরও পড়ুন: মন থেকে হিংসা দূর হতেই তৈরি হয়েছিল এই অঙ্গ, এখন কোনও কাজেই লাগে না! যদিও মাথা খাটাতে গেলেই হাত যায় এখানে, বলছে গবেষণা)

সংবেদনশীল গোলযোগ: চোখ বনাম কান

আমাদের শরীর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য মূলত তিনটি মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে—চোখ, অন্তকর্ণ (Inner Ear) এবং পেশির স্নায়ু। যখন আমরা স্থির থাকি, তখন এই তিনটি মাধ্যমই মস্তিষ্ককে একই তথ্য পাঠায়। কিন্তু চলন্ত গাড়িতে বা নৌকায় বসে থাকাকালীন সমস্যাটি শুরু হয়।

(আরও পড়ুন: ২০০ বছরের বেশি হয়ে যেতে পারে মানুষের আয়ু, তিমি মাছের থেকে সামান্য সাহায্য দরকার! বলছে গবেষণা)

বিষক্রিয়ার ভুল ধারণা ও বমি

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, মস্তিষ্ক যখন এই গরমিল বার্তা পায়, তখন সে মনে করে আপনার শরীরে কোনো বিষক্রিয়া (Neurotoxin) ঘটেছে। বিবর্তনের ইতিহাসে আমাদের পূর্বপুরুষরা যখন কোনো বিষাক্ত খাবার খেতেন, তখন তাঁদের স্নায়ুতন্ত্র একইভাবে বিভ্রান্ত হতো। তাই আজও যখন গাড়ি বা জাহাজের দোলাচল মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে, তখন সে আত্মরক্ষার তাগিদে শরীরকে ‘বিষ’ বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর ফলেই আমাদের বমি বমি ভাব হয় বা বমি হয়ে যায়।

(আরও পড়ুন: মানুষের মূত্রের স্ক্রিস্টাল থেকে ৪৮ কোটি তামার সূচ, মহাকাশে আজও ভেসে বেড়াচ্ছে এসব! শুনলে চমকে যাবেন)

কেন সবার ক্ষেত্রে এমনটা হয় না?

মোশন সিকনেসের তীব্রতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা সবথেকে বেশি দেখা যায় (সাধারণত ২ থেকে ১২ বছর)। আবার মহিলাদের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় মোশন সিকনেস বেশি হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এর পেছনে হরমোন বা জেনেটিক কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। তবে মজার বিষয় হলো, যারা গাড়ি চালায় অর্থাৎ চালকদের মোশন সিকনেস হয় না। কারণ, চালকের মস্তিষ্ক আগে থেকেই জানে গাড়ি কখন কোন দিকে ঘুরবে, ফলে তাঁর ইন্দ্রিয়গুলো বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ পায় না।

(আরও পড়ুন: ডাইনোসরের আগে থেকে পৃথিবীতে আছে এই মাছগুলি! এর মধ্যে একটি তো সকলেরই চেনা)

এই সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় কী?

মোশন সিকনেস থেকে বাঁচার উপায়

বিজ্ঞানীরা এই অস্বস্তি এড়াতে কয়েকটি সহজ টিপস দিয়েছেন:

১. দিগন্তের দিকে তাকান: গাড়িতে জানালার বাইরে দূরের কোনো স্থির বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ ও কান একই গতি অনুভব করতে পারে।

২. ফোন বা বই এড়িয়ে চলুন: চলন্ত অবস্থায় পড়ার চেষ্টা করলে চোখ মনে করে আপনি স্থির, যা বিভ্রান্তি বাড়ায়।

৩. বাতাস চলাচল: সতেজ বাতাস বা এসি চালিয়ে রাখলে অস্বস্তি কিছুটা কমে।

৪. আদা বা মিন্ট: প্রাকৃতিক উপায়ে বমি ভাব কমাতে আদা বা পুদিনা বেশ কার্যকর।

(আরও পড়ুন: বাঁচতে নয়, নিজেদের পছন্দেই অন্য প্রজাতির সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হত আদিম নারী, আজও আমাদের রক্তে আছে তাদের চিহ্ন! বলছে গবেষণা)

মোশন সিকনেস আসলে কোনো রোগ নয়, বরং এটি আপনার শরীরের একটি অতি-সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের মস্তিষ্ক এখনও আধুনিক দ্রুতগামী যানবাহনের সাথে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেনি। তবে বিজ্ঞানের এই ব্যাখ্যা জানলে আপনি অন্তত এইটুকু নিশ্চিত হতে পারেন যে, আপনার শরীর কেবল আপনাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে—যদিও সেই পদ্ধতিটি বেশ অস্বস্তিকর।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe