মা দুর্গার ১০৮টি নামের অলৌকিক শক্তি! জানুন কেন এই পবিত্র দিনগুলিতে দেবীর নাম জপ করা জরুরি

হিন্দু শাস্ত্রে ১০৮ সংখ্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে করা হয়, মা দুর্গার প্রতিটি নামের মধ্যে এক একটি বিশেষ শক্তি নিহিত রয়েছে। এই নামগুলি জপ করলে মানসিক প্রশান্তি আসে এবং জীবনের কঠিন বাধাগুলো দূর হয়।

Published on: Mar 09, 2026 2:38 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন নতুন সাজে সেজে ওঠে, তখনই শুরু হয় শক্তির আরাধনা—চৈত্র নবরাত্রি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই নয়টি দিন অত্যন্ত পবিত্র। ২০২৬ সালের চৈত্র নবরাত্রিতে মা দুর্গার আরাধনা এবং তাঁর ১০৮টি নামের জপ ভক্তদের জীবনে অশেষ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে।

মা দুর্গার ১০৮টি নামের অলৌকিক শক্তি! জানুন কেন এই পবিত্র দিনগুলিতে দেবীর নাম জপ করা জরুরি
মা দুর্গার ১০৮টি নামের অলৌকিক শক্তি! জানুন কেন এই পবিত্র দিনগুলিতে দেবীর নাম জপ করা জরুরি

দেবী দুর্গার ১০৮টি নাম এবং নবরাত্রিতে তার গুরুত্ব ভালো করে জেনে নিন।

চৈত্র নবরাত্রি হলো দেবী শক্তির নয়টি রূপের আরাধনার সময়। পুরাণে বলা হয়েছে, দেবী দুর্গা দুর্গতি নাশিনী। তিনি কেবল অসুর বিনাশ করেন না, বরং ভক্তের মনের অন্ধকার ও ভয় দূর করে তাঁকে আলোর পথ দেখান। ২০২৬ সালের এই নবরাত্রিতে মা দুর্গার ১০৮টি নামের জপ বা 'অষ্টোত্তর শতনামাবলী' পাঠ করা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি আধ্যাত্মিক উন্নতির এক শক্তিশালী মাধ্যম।

(আরও পড়ুন: গ্রহরাজ এবার দায়িত্ব নেবেন! ২ মাস পর থেকেই প্রচুর ধনলাভ ও পদোন্নতি ৩ রাশির)

কেন মা দুর্গার ১০৮টি নাম জপ করবেন?

হিন্দু শাস্ত্রে ১০৮ সংখ্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে করা হয়, মা দুর্গার প্রতিটি নামের মধ্যে এক একটি বিশেষ শক্তি নিহিত রয়েছে। এই নামগুলি জপ করলে মানসিক প্রশান্তি আসে এবং জীবনের কঠিন বাধাগুলো দূর হয়। যারা নবরাত্রির নয় দিন উপবাস রাখেন বা চণ্ডী পাঠ করেন, তাঁদের জন্য এই ১০৮টি নাম পাঠ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।

(আরও পড়ুন: ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছিলেন দেবী ভ্রমরী! তান্ত্রিক মতে, নাদ সাধনায় হয় তাঁর পুজো, কেন তাঁর উপাসনা অত্যন্ত গুহ্য)

মা দুর্গার ১০৮টি নামের সংক্ষিপ্ত মাহাত্ম্য

  • মা দুর্গার এই ১০৮টি নাম মূলত দেবী পার্বতী, সতী এবং মহাকালীর বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও বীরত্বগাথা প্রকাশ করে। নিচে দেবীর বিশেষ কিছু নাম ও তার অর্থ উল্লেখ করা হলো:
  • সতী: অগ্নিকুণ্ডে প্রাণ বিসর্জন দানকারী পবিত্রাত্মা।
  • অপর্ণা: যিনি তপস্যার সময় একটি পাতাও গ্রহণ করেননি।
  • সর্বজ্ঞানী: যিনি মহাবিশ্বের সমস্ত জ্ঞানের আধার।
  • ভবানী: ব্রহ্মাণ্ডের নিবাসস্থল।
  • দুর্গা: যাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।
  • মহিষাসুরমর্দিনী: মহিষাসুর নামক ভয়ংকর রাক্ষসকে বিনাশকারী।
  • ক্রূরা: অসুরদের প্রতি যিনি অত্যন্ত ভয়ংকর।
  • দাক্ষায়ণী: দক্ষ রাজার কন্যা।

(আরও পড়ুন: রামায়ণের রহস্যময় রাক্ষস কবন্ধ! মাথা ও ঘাড়হীন এক দানব, রাম-লক্ষ্মণের হাতে মৃত্যুতেই লুকিয়ে ছিল তাঁর মুক্তি)

নবরাত্রিতে মা দুর্গার ১০৮টি নাম জপ করার সঠিক বিধি

নবরাত্রিতে দেবীর আশীর্বাদ পেতে হলে সঠিক নিয়মে নাম জপ করা আবশ্যক:

১. সময়: ব্রহ্ম মুহূর্ত বা গোধূলি বেলা এই জপের জন্য সবথেকে উপযুক্ত সময়।

২. আসন: উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে লাল বা পশমের আসনে বসে জপ করা উচিত।

৩. প্রদীপ: দেবীর সামনে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে ধূপ ও সুগন্ধি ফুল অর্পণ করুন।

৪. একাগ্রতা: জপ করার সময় মনে কোনো প্রকার কলুষতা বা রাগ রাখা চলবে না। মা দুর্গার মমতাময়ী রূপটি হৃদয়ে কল্পনা করে নামগুলো পাঠ করুন।

(আরও পড়ুন: একেই বলে শনিদেবের কৃপা! মীন রাশিতে অস্ত যাবেন তিনি, ৩ রাশি পাবে অপার সাফল্য)

আধ্যাত্মিক ও জাগতিক সুবিধা

জ্যোতিষশাস্ত্র এবং শক্তিবাদ অনুযায়ী, নবরাত্রির সময় মা দুর্গার ১০৮টি নাম জপ করলে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলি পাওয়া যায়:

  • নেতিবাচক শক্তি বিনাশ: গৃহ থেকে অশুভ শক্তির প্রভাব দূর হয়।
  • মনোবল বৃদ্ধি: ভয় এবং দুশ্চিন্তা দূর করে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
  • মনস্কামনা পূরণ: ভক্তিভরে নাম জপ করলে ভক্তের মনের সৎ ইচ্ছা পূরণ হয়।
  • সুস্বাস্থ্য: শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

(আরও পড়ুন: বৃহস্পতি সরাসরি চললে ফিরবে এই ৪ রাশির ভাগ্য, দীর্ঘদিনের বাধা কেটে শুরু হবে উন্নতির জোয়ার)

২০২৬ সালের চৈত্র নবরাত্রি আমাদের জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি এবং শক্তির বার্তা নিয়ে আসুক। মা দুর্গার এই ১০৮টি নাম কেবল শব্দ নয়, এগুলো হলো একেকটি মন্ত্র। এই পবিত্র দিনগুলোতে দেবীর চরণে নিজেকে সমর্পণ করে তাঁর নাম জপ করলে যে আধ্যাত্মিক শান্তি পাওয়া যায়, তা অতুলনীয়। এবারের নবরাত্রিতে আসুন আমরা সবাই মা দুর্গার আরাধনায় মগ্ন হই।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More