কাল শীতলা অষ্টমী, জানুন তিথি ও শুভ মুহূর্ত, কেন কোথাও কোথাও বাসি খাবার বিতরণ করা হবে এদিন
বসন্তকাল বিদায় নিয়ে যখন গ্রীষ্মের আগমন ঘটে, তখনই পালিত হয় শিতলা অষ্টমী। চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এটি ‘বাসোড়া’ নামেও অত্যন্ত জনপ্রিয়।
শিতলা অষ্টমী বা বাসোড়া উৎসবের তিথি ও মাহাত্ম্য নিয়ে বিশেষ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। হিন্দু ধর্মে শিতলা অষ্টমীর দিনটি মা শিতলার আরাধনার জন্য উৎসর্গ করা হয়, যা বিশেষত ঋতু পরিবর্তনের সময় সুস্বাস্থ্য ও রোগমুক্তির প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।

বসন্তকাল বিদায় নিয়ে যখন গ্রীষ্মের আগমন ঘটে, তখনই পালিত হয় শিতলা অষ্টমী। চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এটি 'বাসোড়া' (Basoda) নামেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই দিন মা শিতলার পুজো করা হয় এবং তাঁকে বাসি খাবার বা শীতল অন্ন ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়।
(আরও পড়ুন: মা দুর্গার ১০৮টি নামের অলৌকিক শক্তি! জানুন কেন এই পবিত্র দিনগুলিতে দেবীর নাম জপ করা জরুরি)
শিতলা অষ্টমী ২০২৬: তারিখ ও শুভ মুহূর্ত
- পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে শিতলা অষ্টমী পালিত হবে আগামী ১০ মার্চ, মঙ্গলবার।
- অষ্টমী তিথি শুরু: ৯ মার্চ ২০২৬, রাত থেকে।
- অষ্টমী তিথি শেষ: ১০ মার্চ ২০২৬, শেষ রাত পর্যন্ত।
- পুজোর শুভ সময়: ১০ মার্চ সূর্যোদয় থেকে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পুজোর সেরা সময়।
(আরও পড়ুন: বৃহস্পতি সরাসরি চললে ফিরবে এই ৪ রাশির ভাগ্য, দীর্ঘদিনের বাধা কেটে শুরু হবে উন্নতির জোয়ার)
বাসি খাবারের ঐতিহ্য বা ‘বাসোড়া’
এই উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বাসি খাবার। অষ্টমীর আগের দিন (সপ্তমীর রাতে) বিভিন্ন ধরণের পদ যেমন— মিষ্টি ভাত, লুচি, রাবড়ি, দই এবং বিশেষ লাড্ডু তৈরি করে রাখা হয়। অষ্টমীর সকালে উনুন জ্বালানো হয় না। আগের দিনের তৈরি সেই শীতল খাবারই মা শিতলাকে নিবেদন করা হয় এবং পরিবারের সবাই প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেন। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন উনুন জ্বালানো অশুভ বলে মনে করা হয়।
(আরও পড়ুন: একেই বলে শনিদেবের কৃপা! মীন রাশিতে অস্ত যাবেন তিনি, ৩ রাশি পাবে অপার সাফল্য)
মা শিতলার স্বরূপ ও মাহাত্ম্য
মা শিতলার রূপ অত্যন্ত শান্ত এবং শীতল। তিনি গর্দভ বা গাধার ওপর আরোহণ করেন। তাঁর এক হাতে থাকে ঝাড়ু (পরিচ্ছন্নতার প্রতীক) এবং অন্য হাতে শীতল জলের কলস। মা শিতলা মূলত পরিচ্ছন্নতা এবং আরোগ্যের দেবী। প্রাচীনকাল থেকেই স্মল পক্স (বসন্ত), হাম এবং বিভিন্ন চর্মরোগ থেকে মুক্তি পেতে মায়ের আরাধনা করা হয়। তিনি যেমন শীতলতার প্রতীক, তেমনই তাঁর কৃপায় শরীরের দহন বা রোগজ্বালা প্রশমিত হয়।
পুজোর বিশেষ বিধি ও মন্ত্র
- শিতলা অষ্টমীর দিন সকালে সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করতে হয়। এরপর মায়ের মূর্তির সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজো শুরু হয়। পুজোর সময় এই মন্ত্রটি জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক:
- ‘বন্দেহহং শীতলাং দেবীং রাসভস্থাং দিগম্বরীম্। মার্জনী কলসোপেতাং শূপালঙ্কৃত মস্তকম্।।’
- পুজো শেষে মায়ের আরতি করা হয় এবং জল দিয়ে ঘর ও চারপাশ শুদ্ধ করা হয়।
(আরও পড়ুন: রামায়ণের রহস্যময় রাক্ষস কবন্ধ! মাথা ও ঘাড়হীন এক দানব, রাম-লক্ষ্মণের হাতে মৃত্যুতেই লুকিয়ে ছিল তাঁর মুক্তি)
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
জ্যোতিষশাস্ত্রের পাশাপাশি এই উৎসবের একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। চৈত্র মাসের এই সময়ে আবহাওয়া হঠাৎ গরম হতে শুরু করে। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে শরীরে জলবসন্ত বা পেটের গোলমাল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। বাসি বা শীতল খাবার খাওয়া এবং পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলা আসলে শরীরকে নতুন আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করার একটি প্রাচীন পদ্ধতি। তবে এটিই বছরের শেষ দিন যখন বাসি খাবার খাওয়ার রীতি আছে, এরপর থেকে গ্রীষ্মের কারণে টাটকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
(আরও পড়ুন: ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছিলেন দেবী ভ্রমরী! তান্ত্রিক মতে, নাদ সাধনায় হয় তাঁর পুজো, কেন তাঁর উপাসনা অত্যন্ত গুহ্য)
২০২৬ সালের শিতলা অষ্টমী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সুস্থ থাকতে গেলে ভক্তির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাও সমান জরুরি। মায়ের চরণে শীতল ভোগ নিবেদন করে আমরা মূলত শান্তি ও সুস্বাস্থ্যের প্রার্থনা করি। ১০ মার্চের এই পবিত্র তিথি আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য আরোগ্য নিয়ে আসুক।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper











