Sign in

Bizarre Divorce: স্বামীর নিজের বোনই 'দ্বিতীয় স্ত্রী!' ২৮ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানলেন মহিলা

Bizarre Divorce: এই মামলাটি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চ পর্যন্ত গড়ায়। সেখানে স্বামী একতরফা বিবাহবিচ্ছেদ আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রীর পেশ করা বিভ্রান্তিকর প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত ওই আদেশ দিয়েছিলেন।

Published on: Apr 27, 2026, 13:23:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bizarre Divorce: দম্পতিরা যখন বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন, তখন অভিযোগগুলো সাধারণত গার্হস্থ্য হিংসা, যৌতুক সংক্রান্ত হয়রানি বা দাম্পত্য কলহকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের একটি মামলায়, এক মহিলা এমন এক কৌশল অবলম্বন করেছেন যা খুব কম মানুষই কল্পনা করতে পেরেছিলেন। বিবাহবিচ্ছেদ নিশ্চিত করাতে তিনি তাঁর স্বামীর নিজের বোনকেই তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন।

২৮ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানলেন মহিলা
২৮ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানলেন মহিলা

এই মামলাটি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চ পর্যন্ত গড়ায়। সেখানে স্বামী ওই একতরফা বিবাহবিচ্ছেদ আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রীর পেশ করা বিভ্রান্তিকর প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত ওই আদেশ দিয়েছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গোয়ালিয়রের বাসিন্দা ওই মহিলার ১৯৯৮ সালে একটি বিপণন সংস্থায় কর্মরত এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়। কিন্তু স্বামী প্রায়শই বাড়ির বাইরে থাকতেন, যা ধীরে ধীরে দম্পতির মধ্যে কলহের জন্ম দেয়। এরপর ২০১৫ সাল থেকে ওই মহিলা তাঁর স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন। ওই মহিলা যে কোনও মূল্যে বিবাহবিচ্ছেদ চাইলেও, স্বামী তাতে রাজি ছিলেন না। শেষমেশ ২০২১ সালে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের আর্জি নিয়ে পারিবারিক আদালতের দ্বারস্থ হন এবং অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্বামী দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন।

প্রমাণ হিসেবে ওই মহিলা একটি পারিবারিক ছবি আদালতে পেশ করেন, যেখানে তাঁর স্বামীকে তাঁর বোন এবং অন্যান্য আত্মীয়দের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন যে, ছবিতে তাঁর স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাটিই তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এই ছবিটিকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে পারিবারিক আদালত ডিভোর্সের দাবি মেনে নেয়। গোয়ালিয়র পারিবারিক আদালত ওই মহিলার পক্ষে একতরফা বিবাহবিচ্ছেদের আদেশ জারি করে। স্বামীকে তাঁর বক্তব্য পেশ করার কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিবাহবিচ্ছেদের আদেশটি কার্যকর করা হয়। কিন্তু এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বামী যখন বিবাহবিচ্ছেদের রায়ের বিষয়টি জানতে পারেন, তখন পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। আদালতের নথিপত্র যাচাই করে তিনি সেই ছবিটি দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান, যা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ছবিতে যাকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তিনি প্রকৃতপক্ষে ছিলেন তাঁর নিজের বোন।

এই প্রসঙ্গে সরকারি আইনজীবী ধর্মেন্দ্র শর্মা জানিয়েছেন, স্বামী এখন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চে ওই একতরফা বিবাহবিচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। স্বামীর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী আদালতকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের আদেশটি হাসিল করেছেন। বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট মামলাটির শুনানি করছে। শুনানিতে স্বামী আদালতকে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন বিবাহবিচ্ছেদের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাঁর যুক্তি হল পুরো সিদ্ধান্তটিই বিভ্রান্তিকর ও ভুল দাবির ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।