Iran War Latest Update: আলোচনায় জোর, তবু সামরিক বিকল্প খোলা রাখছেন ট্রাম্প, ডেডলাইন নিয়ে নেই মাথাব্যথা

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ফের বড় আকারের সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Published on: Jul 2, 2026, 07:56:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Iran War Latest Update: ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনার মধ্যেই সামরিক বিকল্পও খোলা রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ফের বড় আকারের সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে আপাতত সামরিক অভিযান শুরু না করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনার মধ্যেই সামরিক বিকল্পও খোলা রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (AP Photo/Matt Rourke)
ইরানের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক আলোচনার মধ্যেই সামরিক বিকল্পও খোলা রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (AP Photo/Matt Rourke)

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরানের বিরুদ্ধে 'অসমাপ্ত কাজ শেষ' করা সম্ভব হবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করছেন, এই মুহূর্তে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে চলমান আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হতে পারে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সম্ভাবনাও কমে যেতে পারে। সেই কারণেই আপাতত কূটনৈতিক পথেই এগোতে চাইছে হোয়াইট হাউস।

সূত্রের দাবি, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, ১৮ অগস্টের মধ্যে চুক্তি না হলেও তিনি আলোচনার সময়সীমা বাড়াতে রাজি। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চান তিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, সামরিক চাপ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। বরং সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করলে সীমিত পরিসরে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার নির্দেশ দিতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। গত সপ্তাহান্তে এমন হামলার জেরেই দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং মাত্র দু'সপ্তাহ আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিও চাপে পড়ে।

এদিকে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে। কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি দুই দেশের প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরাও পারমাণবিক ইস্যুতে পৃথক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। গত মাসে গৃহীত ৬০ দিনের আলোচনার কাঠামোর অধীনে এটি দ্বিতীয় সপ্তাহের আলোচনা।

তবে আলোচনায় এখনও একাধিক বড় বাধা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। ইরান ওই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ফি আদায় করতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা মানতে এখনও রাজি নয়। যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, তেহরান তাঁর সব শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে।

মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও ইরানের সমালোচনা করে বলেছেন, তেহরান এখনও সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখায়নি। তাঁর দাবি, মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণেই বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে।

একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা আকস্মিক সংঘাত এড়াতে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলারও চেষ্টা চলছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই সংকটকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে এবং উভয় পক্ষ তা ব্যবহারও করেছে।

তবে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামরিক প্রস্তুতি থামেনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ও জেনারেল কেইন ট্রাম্পের সামনে নতুন করে বড় আকারের বিমান হামলার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন, যাতে আলোচনা ভেস্তে গেলে দ্রুত অভিযান শুরু করা যায়। যদিও এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট—চাপ বজায় রেখে কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে চান তিনি। তবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিকল্পও তাঁর টেবিলে রয়ে গেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More