Saokat Molla’s Son’s cafe: সাতদিনের ডেডলাইন! শওকত-পুত্রের কাফেটেরিয়া ভাঙার নির্দেশ প্রশাসনের, বুলডোজার...
Saokat Molla’s Son’s cafe: জানা গিয়েছে, বাবা বিধায়ক থাকাকালীন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌখালিতে মাতলা নদীর চর ভরাট করে ‘অরণ্যের কূলে’ নামক ক্যাফেটি তৈরি করেছিলেন ইমরান মোল্লা। সেই সময় তাঁর বাবা জেলার প্রভাবশালী নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক।
Saokat Molla’s Son’s cafe: ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে গ্রেফতারের পর নজরে এসেছিল তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লার মালিকানাধীন কাফেটেরিয়া। অভিযোগ, নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে বিশাল কাফেটেরিয়াটি মাতলা নদীর চর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে। অর্থাৎ, পুরোটাই নাকি বেআইনি। এ নিয়ে হইচই হতেই ক্যানিংয়ের মহকুমা শাসকের অফিস থেকে তাঁকে সব কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়। তা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, সেচ দফতরের জমি দখল করেই ওই বিশাল কাফেটেরিয়া তৈরি করা হয়েছে। এ কারণেই সেই কাফেটেরিয়া ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিল জেলা প্রশাসন। আগামী ২৯ জুনের মধ্যে কাফেটেরিয়াটি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক পুত্রকেই তা ভাঙতে বলা হয়েছে। ওই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেবে বলে সূত্রের খবর।

জানা গিয়েছে, বাবা বিধায়ক থাকাকালীন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌখালিতে মাতলা নদীর চর ভরাট করে ‘অরণ্যের কূলে’ নামক ক্যাফেটি তৈরি করেছিলেন ইমরান মোল্লা। সেই সময় তাঁর বাবা জেলার প্রভাবশালী নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই প্রভাবের বলে নিয়মের তোয়াক্কা না করে দিব্যি চলছিল সেই কাফেটেরিয়া। মাতলার চরে বিশাল জমি দখল করে নির্মাণ গড়ে তুলেছিলেন বিধায়ক ও তাঁর পরিবার। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর বদলে যায় সব হিসাব। বিধানসভা ভোটে শওকতের হারের পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। তারই একটি এই বিতর্কিত ক্যাফে। ভাঙড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে শওকতের খোঁজে তাঁর বাড়ি এবং ওই কাফেতে তল্লাশি চালানোর সময় প্রকাশ্যে আসে ইমরানের এই সম্পত্তি। এর মধ্যে ভাঙড়ের বিস্ফোরণ মামলায় এনআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শওকত। তার আগে তাঁর পুত্র ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তখনই ওই ক্যাফের বিষয়ে তথ্যতালাশ করতে প্রশাসনের তরফে নোটিস সাঁটানো হয় ‘অরণ্যের কূলে’র গেটে। এবার সেই ক্যাফে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে ক্যানিং মহকুমা প্রশাসন।
সম্প্রতি ক্যানিংয়ের এসডিও-র তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়াটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে হবে মালিক পক্ষকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা না করা হলে প্রশাসন নিজেই উচ্ছেদ অভিযান চালাবে এবং সেই খরচ বহন করতে হবে ক্যাফের মালিক অর্থাৎ শওকতের ছেলে ইমরানকেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগে ১৮ জুনের মধ্যে জমি সংক্রান্ত সমস্ত বৈধ নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ইমরানকে। জানা গিয়েছে, শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন ইরফানের আইনজীবী। কিন্তু জমির বৈধ নথি তাঁরা দেখাতে পারেননি। তার পরেই এই পদক্ষেপ করছে প্রশাসন। তবে এই ক্যাফে ছাড়াও সেখানে গজিয়ে ওঠা আরও দোকানের ভবিষ্যৎ কী, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাদের নথিপত্র পরীক্ষা করার কাজ চলছে। অন্যদিকে, ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের তৈরি বৃদ্ধাশ্রম নিয়েও আপাতত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটি নিয়েও অনেক জটিলতা আছে, তাই এ ব্যাপারে ধীরে চলার নীতি নেওয়া হয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে সেই নির্মাণও যে চর দখল করেই হয়েছে, তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
E-Paper

