ফাল্গুনের শেষে মুড সুইং! ঘূর্ণাবর্ত-নিম্নচাপের জোড়া ফলায় ভিজবে রাজ্য, জানুন লেটেস্ট আপডেট

বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নিম্নচাপ এবং তার প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ওড়িশা থেকে ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ হয়ে উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত হয়েছে।

Published on: Mar 09, 2026 2:22 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এখন বসন্তকাল হলেও বাংলার আবহাওয়া ক্রমেই পরিবর্তন হচ্ছে। বারবার বদলাচ্ছে আবহাওয়ার মেজাজ। রবিবার দুপুর থেকেই তিলোত্তমার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল, বেলা দুটোর পর থেকে বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস মিলিয়ে দিয়ে সোমবারও দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশা ও বাংলার সীমান্তে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত এবং বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবেই এই অকাল বৃষ্টি বলে জানিয়েছেন আবহবিদরা।

ঘূর্ণাবর্ত-নিম্নচাপের জোড়া ফলায় ভিজবে রাজ্য  (Photo by Anshuman Poyrekar/Hindustan Times)
ঘূর্ণাবর্ত-নিম্নচাপের জোড়া ফলায় ভিজবে রাজ্য (Photo by Anshuman Poyrekar/Hindustan Times)

রাজ্যের এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নিম্নচাপ এবং তার প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ওড়িশা থেকে ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ হয়ে উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত হয়েছে। ঠিক এই সময়েই উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে একটি দুর্বল পশ্চিমী ঝঞ্ঝা দেশে প্রবেশ করেছে। এই জোড়া সিস্টেমের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছে বজ্রগর্ভ মেঘ। এছাড়া ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ওপরে থাকা ‘জেট স্ট্রিম’ কিছুটা নীচে নেমে আসায় মেঘের রাশি বাংলার দিকে সরে আসছে। এর ফলে বজ্রগর্ভ মেঘ দ্রুত বাংলার দিকে সরে আসতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি চলতে পারে। ফলে আকাশ মেঘলা থাকা, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই জেলাগুলির কিছু এলাকায় দমকা ঝড়ো হাওয়াও বইতে পারে। ফলে স্থানীয় মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রবিবার সাগর সংলগ্ন কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, সোমবার ও মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, আগামী রবিবার থেকে ফের এক দফায় বৃষ্টির নতুন স্পেল শুরু হতে পারে রাজ্যে। অর্থাৎ মার্চের শুরুতেই কার্যত বর্ষার মেজাজ রাজ্যে।

এক নজরে কলকাতার আবহাওয়া

কলকাতাতেও আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার শহরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। আজ শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের বেলায় মেঘলা আকাশের কারণে কিছুটা অস্বস্তি থাকতে পারে। তবে রাতের দিকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে কিছুটা শীতল অনুভূত হবে।

উত্তরবঙ্গের পূর্বাভাস

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও খুব একটা পার্থক্য থাকবে না। পাহাড়ি এলাকাতেও সোমবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। পাহাড়ের পাশাপাশি তরাই ও ডুয়ার্স এলাকার কয়েকটি জেলাতেও মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার। এই সব জায়গায় দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টিপাত হতে পারে। উত্তরবঙ্গের সমতল জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলায় বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।