Ashoknagar Oil Extraction: জ্বালানি মানচিত্রে গুরুত্ব বাড়বে বাংলার, জুলাই থেকেই বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন অশোকনগরে
অশোকনগর প্রকল্পে ইতিমধ্যেই পাঁচটি উৎপাদনমূলক কূপ খনন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে একটি কূপ থেকে জুলাই মাসেই তেল উত্তোলন শুরু হবে। বাকি কূপগুলিকেও দ্রুত উৎপাদনের আওতায় আনতে পৃষ্ঠতল পরিকাঠামো, সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন ও পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাস্তবের পথে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের তেল ও গ্যাস প্রকল্প। আগামী জুলাই মাস থেকেই অশোকনগরে বাণিজ্যিকভাবে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ওএনজিসি (ONGC)। একই সঙ্গে আগামী বছরের গোড়া থেকেই ওই ক্ষেত্র থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে পশ্চিমবঙ্গ দেশের জ্বালানি উৎপাদনের মানচিত্রে নতুন গুরুত্ব অর্জন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওএনজিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগর প্রকল্পে ইতিমধ্যেই পাঁচটি উৎপাদনমূলক কূপ খনন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে একটি কূপ থেকে জুলাই মাসেই তেল উত্তোলন শুরু হবে। বাকি কূপগুলিকেও দ্রুত উৎপাদনের আওতায় আনতে পৃষ্ঠতল পরিকাঠামো, সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন ও পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে।
প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, অশোকনগরের অপরিশোধিত তেলের গুণমান দেশের অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র বম্বে হাইয়ের তেলের সমতুল্য। প্রাথমিক মূল্যায়নে এখানে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সম্ভাব্য মজুতের ইঙ্গিত মিলেছে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রয়্যালটি ও কর বাবদ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়তে পারে। পাশাপাশি উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল হলদিয়ার শোধনাগারে পাঠিয়ে শিল্প উৎপাদনে ব্যবহার করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
তবে এই প্রকল্পের পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যাম্প ডিউটি, রয়্যালটি, লাইসেন্স এবং অন্যান্য আইনি জটিলতার কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে ছিল। সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার 'পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস আইন, ২০২৫' কার্যকর করার পর সেই জটিলতার অনেকটাই কাটে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
বিজেপির দলীয় সূত্রের দাবি, এই প্রকল্পের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তাঁদের বক্তব্য, তিনি একাধিকবার সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সমন্বয় রেখে প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করেছেন।
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, অশোকনগরের তেল প্রকল্প শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে চলেছে। তাঁর কথায়, 'জুলাই মাসে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হবে। এই প্রকল্পকে ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনায় শিল্প, সহায়ক পরিষেবা, পরিবহণ পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দেশীয় তেল উৎপাদন বাড়লে অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।'
ওএনজিসি ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি রাজ্যের আরও দুটি সম্ভাবনাময় বেসিনে অতিরিক্ত ৪২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। যদিও জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কিছু সমস্যা এখনও পুরোপুরি মেটেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সে বিষয়ে ওএনজিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় শমীক ভট্টাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন যে, রাজ্যের নতুন জমি নীতি কার্যকর হলে সেই সমস্যারও দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান ও প্রস্তুতির পর অশোকনগরের তেলক্ষেত্রে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে তা শুধু পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির জন্য নয়, দেশের জ্বালানি স্বনির্ভরতার লক্ষ্য পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। একই সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্তও উন্মোচিত হতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


