কীভাবে সম্ভব? ভোটমুখী বঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ার বদলি, ভবানী ভবনের নির্দেশিকায় প্রশ্ন নানা মহলে
একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ করা যাবে না।
নির্ঘন্ট প্রকাশ না পেলেও বাংলার বিধানসভা ভোট নিয়ে কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই আবহে তিন মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের বদলির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য পুলিশের সদর দফতর। আর তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, শুধু পুলিশ নয়, সিভিক ভলান্টিয়ারদেরও বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে ভবানী ভবন? আপাতত সেই নিয়ে তোলপাড় পুলিশ মহল।

জানা গেছে, রবিবার তিন মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের বদলির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য পুলিশের সদর দফতর। এই নির্দেশিকা জারি করেছে আইজি অর্গানাইজেশন। আর তাতে সিলমোহর দিয়েছে ভবানী ভবনও। কিন্তু সিভিক ভলান্টিয়ারের বদলির বিজ্ঞপ্তি রাজ্য পুলিশের সদর দফতর থেকে প্রকাশের কোনও নজির কী রয়েছে? ওয়াকিবহল মহল অন্তত তা মনে করতে পারছে না। সর্বোপরি সিভিক ভলান্টিয়ার পুলিশ নয়, এই রায় আগেই দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ করা যাবে না। সরকারি নীতিতেও পুলিশের মূল কাজে তাঁদের যুক্ত না থাকার কথা বলা হয়েছিল সেই মামলায়। এক কথায় সিভিক ভলান্টিয়াররা যে পুলিশ নন, তা সাংবিধানিক ভাবেই স্পষ্ট করেছিল রাজ্যের উচ্চ আদালত।
তারপরেও কোন ভিত্তিতে ভবানী ভবন থেকে তিন মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি হল? এই প্রশ্ন থেকেই যায়। এমনকী, কী কারণে তাঁদের বদলি করা হয়েছে, সেই নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। এর আগে বাম জমানায় শহরের রাস্তায় দেখা যেত গ্রিন পুলিশকে। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ‘অর্ডার’ বের করে প্রাথমিকভাবে হাওড়া এবং আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের জন্য ২০০০ সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করে। রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের সূচনা এই পদক্ষেপ থেকেই। পদস্থ আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অর্ডার’ বের করে এই সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ শুরু করেছিল। সাধারণ ভাবে স্থানীয় থানা ভিত্তিতেই এই ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে। সুতরাং, রাজ্য পুলিশের সদর দফতরের সঙ্গে এই ভলান্টিয়ারদের সরাসরি কোনও যোগ নেই বললেও ভুল হবে না।
E-Paper

