ভোটমুখী বঙ্গে শ্যুটআউট! সাতসকালে গুলিবিদ্ধ বিজেপি নেতা, হুলুস্থূল সাগর

সকাল সকাল এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় গঙ্গাসাগর উপকূল থানার পুলিশ।

Published on: Mar 11, 2026 1:29 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বিধানসভা নির্বাচনের আগেই হিংসার ছাপ রাজ্যে। বুধবার প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি চালিয়ে বিজেপি নেতাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে। আহত ব্যক্তি এলাকার একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিলেন বলে খবর সূত্রের। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। নেপথ্যে শাসক দলের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির। যদিও সেই অভিযোগ খারিজ করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যে দুষ্কৃতীদের খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

সাতসকালে গুলিবিদ্ধ বিজেপি নেতা
সাতসকালে গুলিবিদ্ধ বিজেপি নেতা

রক্তাক্ত সাগর

পুলিশ সূত্রে খবর, আহত ওই বিজেপি নেতার নাম ত্রিলোকেশ ঢালি। তিনি মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন আহ্বায়তক। বুধবার সকালে তিনি দলেরই একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, তখনই সকাল আটটা নাগাদ গঙ্গাসাগর উপকূল থানার অন্তর্গত শ্রীধাম বাসস্ট্যান্ড থেকে গঙ্গাসাগর বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই দুষ্কৃতী। ত্রিলোকেশ ঢালি যাওয়ার সময় বাইক করে দুই দুষ্কৃতী গিয়ে তাঁর পথ আটকায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে লক্ষ্য করে চালানো হয় গুলি। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ত্রিলোকেশ। এরপরেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার আকস্মিকতায় হতচকিত হয়ে যান স্থানীয়রা। ওই বিজেপি নেতাকে উদ্ধার করে দ্রুত সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি আপাতত ভর্তি রয়েছেন। শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে খবর।

বিজেপির পথ অবরোধ

সকাল সকাল এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় গঙ্গাসাগর উপকূল থানার পুলিশ। কিন্তু কেন এমন ঘটনা ঘটল? কে বা কারা এই হামলার পিছনে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পুরনো কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই হামলা হতে পারে। ত্রিলোকেশ ঢালি আগে মথুরাপুর সংগঠন জেলা কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন, যদিও বর্তমানে সাধারণ কর্মী হিসেবেই দল করছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। পথে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। সাগর এলাকায় রাস্তা অবরোধ করা হয়। বিজেপির অভিযোগ, এই হামলার পিছনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের হাত আছে।

বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, 'ওই কর্মীর প্রাণ বাঁচবে কিনা বলতে পারছি না। বাংলায় হিংসার রাজনীতি কে শুরু করল? আমরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করব। ওই থানার ওসিকে বরখাস্ত করার দাবি জানাব। কঠোর ব্যবস্থা নিলে তবেই এই ঘটনা বন্ধ হবে।' অন্যদিকে, আক্রান্তের মেয়েও অভিযোগ তুলেছেন সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, 'বাবাকে বুকে গুলি করা হয়েছে। আমরা বিজেপি করি, আমি নিজেই পঞ্চায়েত মেম্বার, এই কারণেই হামলা হতে পারে।' যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দলের নেতারা। তৃণমূলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ অবশ্য দাবি করেছেন, 'নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। ভোটের আগে সব ঘটনার দায় তৃণমূলের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে।' গঙ্গাসাগরের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা তুঙ্গে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।