১ বা ২ দফায় হোক ভোট! কমিশনের কাছে ১৬ দফা দাবির তালিকা BJP-র, কী বলছে সিপিএম?
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মতোই সিপিএমও হিংসামুক্ত নির্বাচনে লক্ষ্যে এক বা দুই দফায় ভোটের পক্ষে দাবি জানিয়েছেন।
রবিবার রাতেই কলকাতায় চলে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আর সোমবার সকাল থেকেই বাংলার স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এদিন প্রথমে বিজেপি-র প্রতিনিধি দল বৈঠক করে, পরে সিপিএম। বেরিয়ে এসে তাঁরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানেই তাঁরা বললেন, কী কী দাবি এবং অভিযোগ জানিয়েছেন?

নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বৈঠক
২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে চেয়ে বিজেপি নির্বাচন কমিশনের কাছে ৭-৮ দফায় ভোট করানোর দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু, একুশের সেই দাবি থেকে ছাব্বিশে একেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল বিজেপি। এবার তারা নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে দাবি জানাল, ৭-৮ দফায় নয়, রাজ্যে এবারে এক দু’দফায় ভোট করাতে চায়। শুধু তাই নয়, বিধানসভা নির্বাচনকে হিংসা ও ভয়মুক্ত করতে বিজেপির তরফে একাধিক দাবি জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে প্রায় আধ ঘণ্টার বৈঠকে শিশির বাজোয়িরা, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, তাপস রায়রা বিস্তারিতভাবে নিজেদের মতামত ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও কমিশনের কাছে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে, তাতে সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিজেপির প্রতিনিধি দল আবেদন জানিয়েছে, ভোট যেন খুব বেশি দফায় না করা হয়। ৭-৮ দফার পরিবর্তে সর্বাধিক ১ বা ২ দফায় নির্বাচন করা হোক। এছাড়াও, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে বুথগুলিকে সংবেদনশীল বলে মনে করা হয়, সেগুলি আগে থেকেই চিহ্নিত করার কথাও বলা হয়েছে। বৈঠকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে ভোটে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হয়। তাই নির্বাচন চলাকালীন এই সংগঠনের সমস্ত অফিস বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়েছে। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন নাম সংক্রান্ত কোনও বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা করা হয়নি বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সিপিএমের বৈঠক
বামেদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, রাজ্য কমিটির সদস্য আফরিন বেগম, শমীক লাহিড়ী। বেরিয়ে এসে তাঁরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন সেলিম। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'একটা ভোটার লিস্ট করতে গিয়ে কেন মানুষকে শত্রু বানাল? কেন মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল? নির্বাচন কমিশন কেন নির্যাতন কমিশন হয়ে গেল?' পাশাপাশি, ৬০ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে বাংলায় ভোটার লিস্ট হতে পারে না, কমিশনের কাছে এই দাবি জানিয়েছেন বামেরা। অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশেই এই চক্রান্ত হয়েছেন। এমনকী একাধিক গণ্ডগোলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও, এইআরও, ইআরওদেরও গাফিলতি আছে, কমিশন সেই কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান মহম্মদ সেলিম।
সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য কমিশন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে তাও বিস্তারিত জানতে চায় সিপিএমের প্রতিনিধি দল। একই সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মতোই তারাও হিংসামুক্ত নির্বাচনে লক্ষ্যে এক বা দুই দফায় ভোটের পক্ষে দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের বক্তব্য, এক হোক দুই হোক যাই হোক, সাধারণ মানুষ ও প্রার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আগে নিশ্চিত করতে হবে।
E-Paper











