‘মা দুর্গা আমার জনগণকে...,' বিদায়কালে রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি আবেগঘন বোসের
নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ রাজ্য রাজনীতিতে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে।
বাংলার রাজভবনে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা। একদিকে যখন নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবি কলকাতায় পা রাখছেন, ঠিক তখনই রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি লিখে বিদায় জানালেন সিভি আনন্দ বোস। কলকাতা ছেড়ে নিজের রাজ্য কেরলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে এই চিঠিতে তিনি পশ্চিমবঙ্গকে নিজের ‘দ্বিতীয় ঘর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যা ৩ বছর ৪ মাস পর আচমকা রাজ্যপাল পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলা ছাড়ার সময়ও রাজ্যের প্রতি তাঁর টানের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজভবনে নতুন রাজ্যপালের শপথ গ্রহণের আগেই বোসের এই বার্তা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিঠিতে চেনা আবেগ ও রবি ঠাকুরকে স্মরণ
চিঠির শুরুতেই বঙ্গবাসীকে ‘প্রিয় ভাই ও বোন’ বলে সম্বোধন করেছেন আনন্দ বোস। পশ্চিমবঙ্গবাসীর ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চিঠিতে তিনি লেখেন, কলকাতায় তাঁর দায়িত্বের অধ্যায় শেষ হলেও বাংলার মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক চিরকাল অটুট থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গ এখন তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ এবং ভবিষ্যতেও তিনি এই রাজ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকবেন। চিঠিতে আনন্দ বোস পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উষ্ণতা ও আন্তরিকতার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ, শিশুদের উচ্ছ্বাস, যুবকদের দৃঢ় করমর্দন এবং প্রবীণদের স্নেহময় দৃষ্টির স্মৃতি তাঁর কাছে অমূল্য হয়ে থাকবে। মহাত্মা গান্ধীর উক্তি স্মরণ করে তিনি বলেন, 'মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন-আমি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছি না, আর বাংলা আমাকে ছেড়ে যেতে দেবে না।' সেই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙক্তি উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যেই তিনি ঈশ্বরকে খুঁজে পেয়েছেন।
তিন বছরের স্মৃতি ও বঙ্গজয়ী মানসিকতা
গত তিন বছরের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আনন্দ বোস জানিয়েছেন, তিনি রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেরিয়েছেন। সাধারণ গ্রামবাসীদের খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরে বসে তাঁদের সঙ্গে আহার করা থেকে শুরু করে তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানো- প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর কাছে অমূল্য। রাজ্যপাল বলেন, বাংলার মানুষ তাঁদের সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর গর্ব অনুভব করেন। যা বাংলার মানসিকতার পরিচয় বহন করে। চিঠির শেষে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিনি বলেন, 'আগামী দিনে বাংলা আরও গৌরবের শিখরে পৌঁছাবে বলে তাঁর বিশ্বাস। সবশেষে তিনি বাংলার মানুষের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে লেখেন, ‘মা দুর্গা আমার জনগণকে রক্ষা করুন।’
উল্লেখ্য, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ রাজ্য রাজনীতিতে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। তাঁর অভিযোগ, পাঁচ বছরের মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও প্রায় দেড় বছর আগে, তাও আবার নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যপালকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আবার বাংলায় ফিরে আসার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। বিদায়ী রাজ্যপাল বাংলায় ভোট দিতে আসবেন কিনা, সে প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভোটের সময় তিনি আসতেই পারেন। এর আগে আনন্দ বোস নিজেও জানিয়েছিলেন, তিনি বাংলার ভোটার এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান।
E-Paper











