ভোটমুখী বাংলাকে বড় উপহার! নতুন দু'টি রেলপথ পাচ্ছে বাংলা, ৪৪৭৪ কোটির মেগা প্রকল্প অনুমোদন কেন্দ্রের
এই মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রস্তাবগুলি কার্য পরিচালনাকে সুবিন্যস্ত করতে এবং যানজট কমাতে প্রস্তুত। প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রীর নতুন ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যা এই অঞ্চলের জনগণকে ‘আত্মনির্ভর’ করে তুলবে।
ভোটমুখী বাংলাকে বড় উপহার নরেন্দ্র মোদী সরকারের। পণ্য পরিবহণে গতি আনতে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে দুটি বড় মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রকল্পগুলির মোট আনুমানিক ব্যয় ৪,৪৭৪ কোটি টাকা এবং ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে মনে করছে রেল।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি এই গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প দুটিকে অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলে সুবিধা হবে, তা বলাই বাহুল্য। আগের তুলনায় আরও অনেকটা কম সময়ে ঝাড়খণ্ড থেকে খনিজ দ্রব্য বা অন্যান্য যাবতীয় পণ্য পৌঁছে যাবে বাংলায়। প্রস্তাবিত প্রকল্পের ফলে বোলপুর-শান্তিনিকেতন, নন্দীকেশ্বরী মন্দির (শক্তিপীঠ), তারাপীঠ (শক্তিপীঠ), পটচিত্র গ্রাম, ধাদিকা বন, ভীমবন্ধ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, রামেশ্বর কুণ্ড ইত্যাদি সহ দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যের সঙ্গে রেল যোগাযোগ উন্নত হবে। প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রী-গতি শক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হল সমন্বিত পরিকল্পনা এবং অংশীদারদের পরামর্শের মাধ্যমে বহু-মডেল সংযোগ এবং লজিস্টিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা। এই প্রকল্পগুলি মানুষ, পণ্য এবং পরিষেবার চলাচলের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ প্রদান করবে।
এই মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রস্তাবগুলি কার্য পরিচালনাকে সুবিন্যস্ত করতে এবং যানজট কমাতে প্রস্তুত। প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রীর নতুন ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যা এই অঞ্চলের জনগণকে ‘আত্মনির্ভর’ করে তুলবে। এই অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান/স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে। সরকারি সূত্রে খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ৫টি জেলা জুড়ে তৈরি হওয়া এই ২ (দুই)টি প্রকল্প ভারতীয় রেলওয়ের বিদ্যমান নেটওয়ার্ককে প্রায় ১৯২ কিলোমিটার বৃদ্ধি করবে। অনুমোদিত মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পটি প্রায় ১৪৭ লক্ষ জনসংখ্যা বিশিষ্ট প্রায় ৫,৬৫২টি গ্রামের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি করবে বলে জানা গিয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলি কয়লা, পাথর, ডলোমাইট, সিমেন্ট, স্ল্যাগ, জিপসাম, লোহা ও ইস্পাত, খাদ্যশস্য, পিওএল, কন্টেইনার ইত্যাদি পণ্য পরিবহনের জন্য অপরিহার্য রুট। ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজের ফলে ৩১ এমটিপিএ (প্রতি বছর মিলিয়ন টন) অতিরিক্ত মালবাহী পরিবহন হবে। রেলওয়ে পরিবেশবান্ধব এবং শক্তি-সাশ্রয়ী পরিবহন পদ্ধতি হওয়ায়, জলবায়ু লক্ষ্য অর্জন এবং দেশের সরবরাহ ব্যয় হ্রাস, তেল আমদানি (০৬ কোটি লিটার) হ্রাস এবং সিও২ নির্গমন (২৮ কোটি কেজি) হ্রাস উভয় ক্ষেত্রেই সহায়তা করবে যা ০১ (এক) কোটি গাছ লাগানোর সমতুল্য।
E-Paper

