জবাব চাই! রাষ্ট্রপতিকে 'অসম্মান' বিতর্কে রাজ্যের রিপোর্ট চাইল শাহী-মন্ত্রক
কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিধানসভা নির্বাচনের কারণে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, একাধিক ইস্যু নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে সংঘাত লেগেই চলেছে। আর এই আবহে বাংলায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘অসম্মান’ নিয়ে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে তা আরও তীব্র হল। এবার বিষয়টি নিয়ে আসরে নামল অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাষ্ট্রপতির বাংলা সফরে শনিবার দিনভর কী কী ঘটেছে, প্রশাসন কী করেছে, তা জানতে চেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি লিখেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। এমনকী, চিঠির উত্তর দেওয়ার জন্য সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এদিনই বিকেল ৫টার মধ্যে চিঠির উত্তর দিতে বলা হয়েছে মুখ্যসচিবকে।

শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সভা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'এত চেয়ার ফাঁকা কেন? আমি বুঝতে পারছি কেউ বাধা দিচ্ছে।' এরপর শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগর গিয়ে এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও তাঁরই মতো বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় আমার উপর রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি এবং তাঁর কোনও মন্ত্রীও আসেননি।' শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতি বলেন, 'আমার মনে কেউ সাঁওতালদের আটকাচ্ছে। কেউ মনে হয় চায় না ওদের উন্নতি হোক, ওরা একজোট হোক। কেউ মনে হয় সাঁওতাল শিক্ষিত হোক, শক্তিশালী হোক।' রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়।
এরপরেই কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'আপনাকে শ্রদ্ধা করি। দেশের এক নম্বর চেয়ার আপনার। ভোটের আগে রাজনীতি করবেন না। কত আদিবাসীর নাম কেটে দিয়েছে। জানেন আপনি?' আবার রাষ্ট্রপতিকে ‘অসম্মান’ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, 'পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী।' এরপর তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়তে থাকে। দুই দলেরই একাধিক নেতা এই নিয়ে পরস্পরকে তোপ দাগেন। এই আবহে রবিবার সকালে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি লিখেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব চিঠি লিখে কড়া বার্তা পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিবকে। রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিল্লির নর্থ ব্লকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
সাধারণভাবে রাষ্ট্রপতি কোনও রাজ্যে এলে তাঁকে স্বাগত জানানোর কথা কোনও মন্ত্রীর। উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যপালের। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ এই মুহূর্তে ফাঁকা রয়েছে। কারণ, সদ্যই সিভি আনন্দ বোস ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর জায়গায় আরএন রবি ১২ মার্চ শপথ নেবেন। রাজ্যপালের পদ ফাঁকা থাকায় সেই পদের কেউ যাননি। কিন্তু, রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে রাজ্যের কোনও মন্ত্রীকেও দেখা যায়নি। গিয়েছিলেন শিলিগুড়ি পৌরনিগমের মেয়র গৌতম দেব।
E-Paper

