'একটা কমিউনিটি যখন জোট…,' মমতার মন্তব্যে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর অভিযোগ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘুদের হয়রানির অভিযোগ আগেই তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সূত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগও করেছেন বারবার।
'যদি আমরা না-থাকি, কোনও দিন সেই রকম আসে, এক সেকেন্ড লাগবে।' ধর্মতলায় ধর্না-মঞ্চ থেকে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তিনি কোনও সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখ করেননি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘুদের হয়রানির অভিযোগ আগেই তুলেছিলেন তিনি। সেই সূত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগও করেছেন বারবার। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগের সূত্রেই ফের সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কী বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
ধর্মতলার ধর্না-মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভাল আছেন। যদি আমরা না-থাকি, কোনও দিন সেই রকম আসে, এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি (সম্প্রদায়) যখন জোট বাঁধে না, ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম বারোটা বাজিয়ে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে কোনও দিন ভুল বুঝবেন না।' সংখ্যালঘুরা যে জওহরলাল নেহরু, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, বি আর আম্বেদকরের আমল থেকে এখানে আছেন, তাতে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই, সে কথাও এই মন্তব্যের আগে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মন্তব্যে কোনও সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করেননি।
বিজেপি-সিপিএমের প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে অবশ্য পাল্টা ‘সাম্প্রদায়িকতা’র অভিযোগ উঠেছে। বাঁকুড়ায় বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীই ধর্না-মঞ্চ থেকে বলছেন, এক সম্প্রদায় একজোট হলে অন্যান্য সম্প্রদায়কে মেরে পুড়িয়ে ফেলবে! ওঁকে বলব, পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে অনেক বেশি মুসলিম উত্তরপ্রদেশ ও অসমে রয়েছে। সেখানে একটাও দাঙ্গা হয় না। কারণ, কেউ দাঙ্গা করলে তার বাড়িতে বুলডোজার চলবে।' তিনি আরও বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোট আগেই হারিয়েছেন, বাকি মুসলিম ভোটও এখন বাবরি মসজিদ গড়তে হুমায়ুন কবীরের কাছে চলে গিয়েছে।’ অন্যদিকে, সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর মতে, ‘মুখ্যমন্ত্রীর ভাবশিষ্য হুমায়ুন কবীর লোকসভা ভোটের একটা সম্প্রদায়ের নাম করে হুমকি দিয়েছিলেন, বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর নেত্রী সম্প্রদায়ের নাম না-করে একই ইঙ্গিত করছেন। আরএসএস-বিজেপির অভিসন্ধির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে এটাও আর একটা বিপদ!’
E-Paper











