CM Suvendu Adhikari: ‘যেখানে হাত দিচ্ছি, ধ্বংসলীলা!’ জ্যোতি বসুকে স্মরণ করে চিকিৎসক দিবসে TMC-কে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর
CM Suvendu Adhikari: রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের কাজকে শিক্ষনীয় করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর একাধিক বক্তব্যকে নিজের ভিতরে আত্মস্থ করেছেন তিনি। বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিধান রায়ের ভূমিকার কথাও এদিন স্মরণ করা হয়। সেই কথা নিজেই এদিন জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
CM Suvendu Adhikari: বুধবার জাতীয় চিকিৎসক দিবসের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের অবদানের কথা স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তেমনই রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণও শানালেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর একটি পুরনো মন্তব্য উদ্ধৃত করে বর্তমান স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুরবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী।

বুধবার সল্টলেকের ময়ূখ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি চিকিৎসক ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, বিধাননগর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের নাম বদলে রাখা হল ‘ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল।’ জাতীয় চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের একাধিক কর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও নীতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবহেলা, দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এদিনও সেই বিষয়কে উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'বাংলায় এত অবহেলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা কাম্য ছিল না।'
রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের কাজকে শিক্ষনীয় করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর একাধিক বক্তব্যকে নিজের ভিতরে আত্মস্থ করেছেন তিনি। বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিধান রায়ের ভূমিকার কথাও এদিন স্মরণ করা হয়। সেই কথা নিজেই এদিন জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রসঙ্গও। চিকিৎসক দিবসে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন যেখানেই আমি হাত দিচ্ছি, দেখছি বিধানচন্দ্র রায় তা শুরু করে দিয়ে গিয়েছেন। আর আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যেখানেই হাত দিচ্ছি, দেখছি বিগত সরকারের ধ্বংসলীলা।' তিনি শুধু বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেননি, একই সঙ্গে পরোক্ষে তৃণমূল সরকারের দীর্ঘ শাসনকালকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নের বদলে প্রশাসনিক অব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক বিভাজনই বেশি করে সামনে এসেছে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, 'রাজ্যের হাসপাতালে এই বেহাল দশা, এটা কি কাম্য ছিল?' তাঁর দাবি, বহু সরকারি হাসপাতালে এখনও পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়ে গিয়েছে। কোথাও চিকিৎসক সংকট, কোথাও শয্যার অভাব, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ঘাটতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
বিজেপি আমলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে উন্নত করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বললেন, 'আমরা-ওরা থাকতে পারে না।' সেই কথাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। বাংলা থেকে বহু রোগী ভিনরাজ্যে চিকিৎসার জন্য যান। এই রাজ্যে চিকিৎসা দেওয়া যায় না? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজ্যে হাসপাতালগুলোর বেহাল অবস্থা। কুকুর বেড়াল শুয়ে থাকত হাসপাতালের ভিতর। সেই প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি। 'এই ধ্বংসলীলা থেকে বাংলাকে বার করতে হবে।' এদিন এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঙালি চিকিৎসকদের ইউরোপ-সহ অন্যান্য দেশে দেখা যায়। সেই কথাও মুখ্যমন্ত্রী জানান। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হাল ফেরাতে জোর দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মেধা এবং দক্ষতা দেশের যে কোনও প্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম। কিন্তু পূর্বতন সরকারের আমলে সেই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, 'মেধার দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গ যে কোনও দেশকে টেক্কা দিতে পারে। কিন্তু আগের সরকারের আমলে যা হয়েছে, তাতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অযথা বিভাজন তৈরি হয়েছিল। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই আমরা-ওরার রাজনীতি প্রয়োজন ছিল না।'
এদিন সরকারি হাসপাতালগুলিতে নজরদারির জন্য স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন হল। স্বাস্থ্য ভবনে নবরূপে সজ্জিত প্রেক্ষাগৃহের উদ্বোধনও হল। এছাড়াও এদিন নদিয়া জেলার ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসের উদ্বোধন হয়েছে। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের নতুন নামকরণ করা হল ডা. বিধানচন্দ্র রায় মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল। উদ্বোধন করা হয় ২০০ বিশেষ ২০০টি অ্যাম্বুল্যান্স। মুখ্যমন্ত্রী এদিন নিক্ষয়মিত্র সার্টিফিকেট তুলে দিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ও রাজারহাট-নিউটাউনের পীযূষ কানোরিয়ার হাতে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চিকিৎসক দিবসের মতো একটি অনুষ্ঠানেও শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের প্রশাসনিক ও মানবিক দিকটি তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে পূর্বতন সরকারের আমলের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুর্বলতা সামনে এনে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।
E-Paper

