SIR: ‘বিচারাধীন’ জটে জর্জরিত প্রার্থীও! ভোটমুখী বঙ্গে নয়া দিশার সন্ধানে সিপিএম
পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ছাড়া রাজ্যে কোনও নির্বাচন করা যাবে না, এই দাবিতে জেলায় জেলায় এবং ব্লকে ব্লকে বিক্ষোভ-আন্দোনে নেমেছে সিপিএম।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রেখে তাঁদের নথি পরীক্ষার কাজ চালাচ্ছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। এরমধ্যে নয়া উদ্বেগ সিপিএম-এর অন্দরে। ইতিমধ্যে দলের খাতায় তাঁরা প্রার্থী হিসেবে বিবেচনাধীন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তালিকা সেই তাঁদের ‘বিবেচনাধীন’ করে দিয়েছে। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ট্রাইবুনালের নির্দেশের জেরে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে আরও জটিল। বিধানসভা ভোট ঘোষণার আগে তাই আপৎকালীন রাস্তা খুঁজতে হচ্ছে বাম শিবিরকে।

পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ছাড়া রাজ্যে কোনও নির্বাচন করা যাবে না, এই দাবিতে জেলায় জেলায় এবং ব্লকে ব্লকে বিক্ষোভ-আন্দোনে নেমেছে সিপিএম। গত কয়েক দিনে সেই কর্মসূচিতে সাড়াও মিলেছে ভাল। রাজ্যে ৬০ লক্ষের বেশি মানুষকে ‘বিচারাধীন’ বা বিবেচনাধীন রেখে দিয়ে ভোট করলে তাতে যে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন হতে পারে না, কলকাতায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছেও সেই দাবি জানিয়ে এসেছেন সিপিএম নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে বসে দেখা যাচ্ছে, শুধু আর পাঁচ জন আম ভোটারের সমস্যা নয়, মুশকিল রয়েছে সিপিএমের ঘরেও। একাধিক জেলা থেকে পাঠানো সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এমন বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে, যাঁরা এই মুহূর্তে কমিশনের ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের আগের দিন পর্যন্ত এই বিবেচনার ফয়সালা প্রক্রিয়া চলবে এবং আদালতের গড়ে দেওয়া ট্রাইবুনালে প্রয়োজনে আবেদন করা যাবে। এই আবহে একটি প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন কমিশন যদি আগামী সপ্তাহে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দেয় এবং আগামী মাসে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়, এখন ‘বিবেচনাধীন’ থাকা কোনও ব্যক্তি তাহলে কী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন? কারণ, ততদিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ছাড়পত্র পেয়ে ভোটার তালিকায় উঠবে, এমন নিশ্চয়তা কোথায়।
এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়?
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, ‘খুব জটিল পরিস্থিতি। বিবেচনাধীন কেউ যদি ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েও যান, প্রাথী-পদের বিষয়টা আরও বেশি ঝুলে থাকছে। কখনও এমন পরিস্থিতি হয়নি। বাধ্য হয়েই বিকল্প নাম ভেবে রাখতে হবে।’ দলীয় সূত্রের খবর, সিপিএম রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ প্রার্থী তালিকায় প্রথম বিবেচনার নামই ঘোষণা করে রাখার পক্ষপাতী। শেষ পর্যন্ত কারও প্রার্থী হওয়া আটকে গেলে তখন বিকল্প নাম ঘোষণা করা যেতে পারে। এরই পাশাপাশি, ভোটার ও প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ এ ভাবে সংশয়ে ফেলে রাখা নিয়ে ফের আইনি লড়াইয়ে যাওয়া যায় কিনা, সেই রাস্তাও ভেবে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, জেলা থেকে পাঠানো নামের ভিত্তিতে কম-বেশি ১২৫টি আসনে প্রার্থীদের নাম প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব। তবে বাম শরিক আরএসপি এবং বাইরে আইএসএফের সঙ্গে আসন-ভাগের জট এখনও কাটেনি। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সেরে আগামী ১৬ বা ১৭ মার্চ বামফ্রন্টের বৈঠকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে।
এরই মধ্যে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রাজ্য সফরের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে যে বিবৃতি জারি করা হয়েছিল, তা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছে সিপিএম। জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে পূর্ণ বেঞ্চ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের পরে কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেছে। জ্ঞানেশ কুমারকে দেওয়া চিঠিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (তিনি নিজেই বৈঠকে গিয়েছিলেন) দাবি করেছেন, বাস্তব ঘটনা ও তথ্যের সম্পূর্ণ অপলাপ করেছে কমিশন। তাঁর প্রশ্ন, প্রশংসা কোথায় পেলেন? বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল বলতেই বা কী বোঝানো হচ্ছে? সেলিম মনে করিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর-এ যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) নামে যে ভাবে মানুষের হয়রানি করা হচ্ছে, তার প্রতিবাদ করা হয়েছিল বৈঠকে। বিপুল সংখ্যক মানুষকে ‘বিবেচনাধীন’ রেখে কী ভাবে ভোট হতে পারে, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেলিমের বক্তব্য, ‘বৈঠকে জমা দেওয়া কাগজপত্র ও উত্থাপন করা প্রশ্নকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থা কী ভাবে একতরফা বিবৃতি দিতে পারে?’
E-Paper











