'মেয়েদের নিয়ে ব্যবসা...,' মন্ত্রী ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মহুয়া? ভাইরাল অডিও ঘিরে বিতর্ক

মহুয়া মৈত্রকে পাল্টা কাঠগড়ায় টেনে কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লক সভাপতি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রিন কার্ড দিয়েছেন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস।

Published on: Mar 13, 2026 12:23 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মেয়েদের নিয়ে ব্যবসা, অভিযোগ উঠছে আবাস যোজনা নিয়েও-বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর কেন্দ্রের এক ব্লক সভাপতিকে সতর্ক করলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ ও কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি মহুয়া মৈত্র? ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই অভিযোগ-অনুযোগের অডিও। গলা শুনে একাংশ বললেন, 'এটা মহুয়া মৈত্র।' যদিও হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা সেই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। তবে সংশ্লিষ্ট অডিও ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।

মন্ত্রী ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মহুয়া? (Rahul Singh)
মন্ত্রী ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মহুয়া? (Rahul Singh)

কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। এলাকায় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত কৃষ্ণনগর ২নং ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। এবার ভাইরাল অডিও সেই মন্ত্রী ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন মহুয়া মৈত্র। অন্তত গলা শুনে তো মহুয়াকে চিহ্নিত করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর অভিযোগ, সঞ্জয়ের এলাকায় নানা অপরাধ মূলক কাজ হচ্ছে। সেই কাজের টাকার ভাগ নিচ্ছেন দলের কর্মীরা। একই সঙ্গে তিনি সাফ বলে দিলেন, 'ভোটের আগে এগুলো বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।'

কী অভিযোগ সাংসদের?

ওই ভাইরাল অডিও ক্লিপে সঞ্জয়কে উদ্দেশ করে মহুয়াকে বলতে শোনা যায়, 'হাইওয়ের পাশে হোটেলে মেয়েদের নিয়ে ব্যবসা চলছে। সেখানে পার্টির লোক টাকা নিচ্ছে। জুয়ার ঠেক বসছে, দলের লোকেরা টাকা খাচ্ছে। ধান কেনা নিয়ে নোংরামি হচ্ছে, আবাস যোজনা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকেই, এগুলো এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন।' তিনি আরও বলেন, 'সঞ্জয়বাবুর শ্যালক তন্ময় মুখোপাধ্যায়, এই সবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।' তবে এই গলা কী আদৌ মহুয়া মৈত্রের? সেটা জানতেই ফোন করা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু মেলেনি কোনও উত্তর। অবশ্য দলের একাংশের মতে, ভাইরাল অডিওর মধ্যে দিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন সাংসদ। যদিও এই সব অভিযোগ মানতে নারাজ ব্লক সভাপতি। তাঁর স্পষ্ট কথা, 'উনি আমার জেলার সভানেত্রী। অনেক বড় মাপের মানুষ। ৪৬ বছর রাজনীতি করছি। কারওর ক্ষমতা নেই, আমার গায়ে কালির একটা দাগ দিতে পারে।'

কী বলছেন রাজ্যের মন্ত্রী?

এদিকে, মহুয়া মৈত্রকে পাল্টা কাঠগড়ায় টেনে কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লক সভাপতি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়কে গ্রিন কার্ড দিয়েছেন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। তাঁর দাবি, 'সঞ্জয় ভালো ছেলে, স্কুল মাস্টার ছিল। ওর সম্পর্কে এই সব কথা মানতে পারব না। এখন যে যার নামে মনমর্জি মতো বলতে পারে। যিনি বলছেন, তাঁর নামেও কেউ বলতে পারেন। কিন্তু এসব ঠিক নয়।' জেলার দলীয় সাংগঠনিক সভাপতি রুকবানুর রহমানের আবার দাবি, 'আমি কোনও সত্যতা পাইনি। তবে এই ধরনের অভিযোগ যদি সত্যি হয়ে থাকে, তা হলে দল উচিত পদক্ষেপ করবে।' বিধানসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। তার আগে এমন অডিও বার্তা ভাইরাল হওয়ায় শাসকদল বিড়ম্বরায় পড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাহলে এতদিন ধরে বিরোধীরা যে অভিযোগ তুলেছে তাই কি সত্যি হল, উঠছে প্রশ্ন।

নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অন্দরে ভাইরাল অডিও নিয়ে ‘ফিসফাস’ হতে দেখে সরব হয়েছে বিজেপি। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, 'তৃণমূলের চুরি মহুয়া মৈত্রও আর সামাল দিতে পারছেন না। আর তিনিও এসব নিয়ন্ত্রণ করবেনই বা কীভাবে? তিনিও তো একই দলে সামিল। তাঁকে তো দল প্রশ্ন করে দিতে পারে, তিনি কীভাবে শিল্পপতির থেকে টাকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করেন।'