ঘরে জ্বলছে স্ত্রী, পালাচ্ছে অগ্নিদগ্ধ স্বামী! কোচবিহারে নার্সের নির্মম মৃত্যুতে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
মৃতা ছন্দা রায় কোচবিহার এম জে এন হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বামী রঞ্জিত রায় শিলিগুড়িতে গাড়ি চালান।
কোচবিহারে বাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে নার্সের রহস্যমৃত্যু। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মৃতার স্বামীও। যদিও এই ঘটনায় সন্দেহের তির ওই নার্সের স্বামীর দিকেই। কীভাবে মহিলা এবং তাঁর স্বামী অগ্নিদগ্ধ হলেন, তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আর অস্বাভাবিক এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় রহস্য দানা বেঁধেছে।

বুধবার রাতে কোচবিহার শহরের বকসিবাড়ি এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম ছন্দা রায় (৩৫)। কোচবিহার শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বকশি বাড়ি এলাকায় একটি বাড়ির দোতলায় ভাড়া থাকত ওই দম্পতি। মৃতা ছন্দা রায় কোচবিহার এম জে এন হাসপাতালের মাতৃমা বিভাগে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বামী রঞ্জিত রায় শিলিগুড়িতে গাড়ি চালান। মাঝে মাঝে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন তিনি। দম্পতির একমাত্র মেয়ে কালিংম্পয়ের একটি স্কুলে পড়াশোনা করে। তাকে সেখানেই রেখেছিলেন দম্পতি। ইদানিং ছন্দা ও রঞ্জিতের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছিল। সেই জল গড়িয়েছিল থানা পর্যন্তও। কিন্তু স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর করেননি ছন্দা।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাত সাড়ে আটটা থেকে পৌনে নটা নাগাদ ডিউটি শেষ করে বাজার নিয়ে ঘরে ঢুকছিলেন ছন্দা দেবী। সেই সময় বাড়িতে আসেন তাঁর স্বামী রঞ্জিত। রাত একটু বাড়তেই তাঁদের চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। তারপরই ঘরে আগুন জ্বলতে দেখেন। এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে দেখেন আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে আসা এক মহিলা। ওই ব্যক্তির শরীরের আগুন লেগেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বাড়ির সামনে গেটের সামনে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় নার্স ছন্দাকে। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নার্সের। এদিকে, আহত রঞ্জিতও ঘটনাস্থল থেকে বেশি দূর যেতে পারেননি। এম জে এন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল ও কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নিহত মহিলার স্বামীই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ছন্দাদেবীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে তাঁর স্বামীকেই সন্দেহ করছেন প্রতিবেশীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, গত দু দিন ধরে ওই দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল।
বাড়ির মালিক দেবজিৎ বর্মা বলেন, 'ছন্দা প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ভাড়া থাকতেন। তাঁর স্বামী রঞ্জিতকে একটি গাড়ি কিনে দেন তিনি। সেটিরই ইএমআই নিয়ে ওদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। আরও কিছু ঝামেলা চলছিল। একবার ছন্দাকে সঙ্গে নিয়ে থানাতেও গিয়েছিলাম। তবে তিনি কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ব্যাপারটা মিটে যায়। আজ বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান গিয়েছিলাম। পাশের বাড়ি থেকে আমাকে খবর দেওয়া হয়। পারিবারিক অশান্তির জেরে এই ঘটনা। বাকিটা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।' আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে আসা রুমা দত্ত বলেন, 'চিৎকার শুনে বাড়ির বাইরে আসি। দেখি এক ব্যক্তি পালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর শরীরেও আগুন লেগেছিল। জামা খুলে পালিয়ে যান তিনি। মহিলা প্রচণ্ড চিৎকার করতে করতে বাড়ির সামনে পড়ে যান।' স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'আমাদের এলাকায় এই রকম কাণ্ড কোনও দিন ঘটেনি। যদি মহিলাকে খুন করা হয়ে থাকে, তাহলে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক সাজ হোক।'
E-Paper

