সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে বাংলাদেশে বন্দি! আড়াই বছর পর স্ত্রীকে ফিরে পেতেই বিয়ে করলেন স্বামী

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার বোয়ালদহ এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ চৌধুরী। তাঁর স্ত্রী ফাল্গুনী রায় একজন ভারতীয় নাগরিক।

Published on: Mar 10, 2026 1:18 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কোনও বলিউড সিনেমা নয়। নয় কোনও গল্প। মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনের এই ঘটনা যে কোনও চিত্রনাট্যকে হার মানাবে। বাংলাদেশে জেল বন্দি স্ত্রীকে ভারতে ফেরাতে প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছিলেন এক অসহায় স্বামী। স্ত্রীকে ফিরে পেতে সরকারের কাছে কাতর আবেদন জানাচ্ছিলেন। ভারতীয় বৈধ পরিচয় পত্র নিয়ে বাংলাদেশে গেলেও, প্রতিবেশী দেশে গিয়েই তাঁর স্ত্রী পড়েন চরম সমস্যায় আর তারপরই হতে হয় জেলবন্দি। অবশেষে ভারত-বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় দীর্ঘ আড়াই বছর বাদে ভারতে ফিরলেন স্ত্রী ফাল্গুনী রায়চৌধুরী। গেদে সীমান্ত দিয়ে স্বামী প্রসেনজিৎ চৌধুরীর হাত ধরে বনগাঁর বোহালদহের বাড়িতে ফিরলেন তিনি।

আড়াই বছর পর স্ত্রীকে ফিরে পেতেই বিয়ে করলেন স্বামী (সৌজন্যে ফেসবুক )
আড়াই বছর পর স্ত্রীকে ফিরে পেতেই বিয়ে করলেন স্বামী (সৌজন্যে ফেসবুক )

জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার বোয়ালদহ এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ চৌধুরী। তাঁর স্ত্রী ফাল্গুনী রায় একজন ভারতীয় নাগরিক। বছর খানেক আগে বৈধ নথিপত্র নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন তিনি। প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী ফাল্গুনীর আগে বনগাঁ ট্যাংরা কলোনির এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের একটি পুত্র সন্তানও জন্মায়। পরে ফাল্গুনী জানতে পারেন, সেই ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক। সেই থেকেই দাম্পত্য জীবনে বিবাদের সূচনা। অভিযোগ, কিছুদিন পরে ওই ব্যক্তি চোরাপথে বাংলাদেশে পালিয়ে যান, নিয়ে যান তাঁদের ছেলেকেও। কোনও মতে ছেলেকে নিয়ে যাওয়া আটকাতে পারেননি ওই তরুণী। ফাল্গুনী একাই থাকতে শুরু করেন।

এরপরই ফাল্গুনীর সঙ্গে পরিচয় হয় বোয়ালদহ গ্রামের প্রসেনজিতের। দু’জনেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২৩ সালে ছেলের খোঁজ নিতে ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে যান ফাল্গুনী। স্বামীকে খুঁজেও পেয়েছিলেন। অভিযোগ, প্রথমপক্ষের স্বামী তাঁর পাসপোর্ট ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে প্রাণে মারার হুমকি দেন। বিপদের মুখে তিনি প্রসেনজিতকে খবর দেন এবং প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ বিডিআর-এর কাছে ছুটে যান। কিন্তু বৈধ পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁকে বাংলাদেশ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার কথা জানতে পেরে প্রসেনজিৎও বৈধ ভিসা ও পাসপোর্ট নিয়ে ঝিনাইদহে পৌঁছে বাংলাদেশের থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে জানতে পারেন, ফাল্গুনী জেলবন্দি। আদালতে তিনি ফাল্গুনীর বৈধ প্রবেশের নথিপত্র দেখালে বাংলাদেশের আদালত সাজা মুকুব করে দেন। সেই থেকেই শুরু হয়েছিল দীর্ঘ লড়াই। কিন্তু হাল ছাড়েনননি প্রসেনজিৎ। ভারতে ফিরে বিদেশ মন্ত্রক, জেলাশাসক ও এসপি অফিসে একাধিকবার আবেদন করেন ফাল্গুনীকে ফিরিয়ে আনার জন্য। আক্ষেপ, স্ত্রী একজন ভারতীয় নাগরিক। ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করে স্ত্রীকে ফিরে না পেয়ে হতাশগ্রস্ত হয়ে প্রশাসনের উপরে ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত তাঁর আবেদনে দুই দেশের সরকার ও বাংলাদেশের আদালত সাড়া দেন। জেলমুক্তি হয় স্ত্রীর।

অবশেষে আড়াই বছর বাদে জেলমুক্তির পর সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরলেন ফাল্গুনী। আর স্ত্রীকে কাছে পেয়ে আত্মহারা প্রসেনজিৎও। অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। স্ত্রী ফিরে আসায় প্রতিবেশী-পরিজনরা দু'জনের সোমবার সন্ধ্যায় ধুমধাম করে আবার বিয়ে দেন। চারহাত এক হয় তাঁদের। মিষ্টিমুখ করানো হয় এলাকার বাসিন্দাদের। খুশির অশ্রুতে চিকচিক করে ওঠে দু'জনের চোখের কোণ।