Sign in

গ্যাসে নয় রান্না হবে ইন্ডাকশনে! যুদ্ধের আঁচ পুলিশের বারাকে, কালোবাজারি রুখতে তৎপর লালবাজার

পশ্চিম এশিয়ার ও আরব দুনিয়ার যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। সময় যত বাড়ছে, ততই তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের দেশগুলিতে।

Published on: Mar 12, 2026, 12:12:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আরব দুনিয়ার সংঘাতের আগুনের আঁচ এসে পড়ছে ভারতেও। জ্বালানি সঙ্কটের মুখে সমগ্র দেশ। ইতিমধ্যেই এলপিজি গ্যাসের হাহাকার দেখা গেছে, মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো বড় বড় শহরগুলির রেস্তরাঁ-হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে। গৃহস্থের সিলিন্ডার বুকিংয়েও এসেছে নানা জটিলতা। কলকাতাতেও এর রেশ অনেকটাই। এমনকী সড়ক পরিবহণেও জ্বালানি সমস্যার প্রভাব পড়েছে। ইতিমধ্যে রাস্তাঘাটে অটোয় বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। আর মানুষের এই দুর্দশার সুযোগ নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে গ্যাসের কালোবাজারি। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে বুধবারই কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে ময়দানে নামল লালবাজার।

যুদ্ধের আঁচ পুলিশের বারাকে
যুদ্ধের আঁচ পুলিশের বারাকে

বর্তমান পরিস্থিতিতে শহরের প্রত্যেক থানাকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে লালবাজারের তরফে। একইসঙ্গে পুলিশ বারাকগুলিতে বিকল্প জ্বালানি অর্থাৎ ইন্ডাকশন, মাইক্রোওভেন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতায় যাতে গ‌্যাসের সঙ্কট না হয়, তার জন্য কালোবাজারি বন্ধের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যাপারে লালবাজারের পক্ষ থেকে প্রত্যেক ডিভিশনের ডিসিকে সতর্ক করা হয়েছে। ডিভিশনের ডিসিরাও তাঁদের আওতায় থাকা থানাগুলিকে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে নজরদারি শুরু করেছেন কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট শাখার আধিকারিকরাও।

পুলিশের মূল নজর শহরের গ্যাস সিলিন্ডার গোডাউনের উপর। আধিকারিকরা গ্যাস সিলিন্ডারের স্টক মিলিয়ে দেখছেন। গ্রাহকদের অর্ডারের বাইরে গ্যাস সিলিন্ডার পাচার হচ্ছে কিনা, বা বেশি দামে বাইরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে কিনা, সেদিকে রয়েছে পুলিশের নজর। এছাড়াও বাড়িতে ব্যবহার হওয়া রান্নার গ্যাস কোনও ব‌্যবসায়িক কাজে লাগানো হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর রাখছেন থানার আধিকারিকরা। বেআইনিভাবে যদি কেউ গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে রাখে তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে। এর আগেও শহরে পুলিশ আধিকারিকরা এমন কিছু চক্রের সন্ধান পেয়েছিল, যারা রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে নিজস্ব পদ্ধতিতে গ্যাস বের করে ছোট সিলিন্ডারে ভরে বিক্রি করে। আবার অনেক সময় তা পরিবহণের কাজেও লাগানো হয়। এমন চক্রের উপরেও পুলিশের তরফে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ বারাকগুলিতেও নজর রাখা হচ্ছে। সেখানে যাতে গ্যাসের আকাল তৈরি না হয় সেজন্য বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

আরব দুনিয়ার সংঘাত

পশ্চিম এশিয়ার ও আরব দুনিয়ার যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। সময় যত বাড়ছে, ততই তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের দেশগুলিতে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত বহু দেশ। এতে সবচেয়ে সমস্যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহ। কারণ আরব দুনিয়া থেকে গোটা বিশ্বে সিংহভাগ তেল সরবরাহ হয় গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের জেরে বন্ধ সেই হরমুজ প্রণালী। অর্থাৎ জ্বালানি সরবরাহের রাস্তাই পুরোপুরি বন্ধ। আর তাতে সব দেশে জ্বালানির সংকট তৈরি হচ্ছে। বাংলাতেও অল্প বিস্তর প্রভাব পড়েছে। এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি গ্যাস সরবরাহ ধাক্কা খেয়েছে কিছুটা। বিশেষত পরিবহণ অর্থাৎ অটোর জ্বালানির ভাণ্ডারে ইতিমধ্যে টানাটানি পড়ে গিয়েছে। সেই সমস্যা যাতে গুরুতর আকার না নেয়, সেই উদ্দেশে আগেভাগেই পদক্ষেপ করছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এনিয়ে আসরে নেমেছেন।