Mamata on ex-Bengal Guv Ananda Bose: 'হোটেলে কেন থাকবেন?' বিদায়বেলায় বোসকে সৌজন্য দেখালেন মমতা, বললেন 'অন্যায় হয়েছে'
অন্যায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত- পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলিপুরের সরকারি গেস্ট হাউসে গিয়ে দেখা করেন প্রাক্তন রাজ্যপালের সঙ্গে।
বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই সাক্ষাৎ কেবল নিছক সৌজন্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং রাজ্যপালের আকস্মিক অপসারণ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত ৫ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে পদত্যাগ করেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর এই সরে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জলঘোলা কম হয়নি। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর গলায় শোনা গেল সেই সুরই। পাঁচদিনের ধরনা কর্মসূচি শেষ করেই তিনি সরাসরি ছুটে যান আলিপুরের স্টেট গেস্ট হাউসে। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ;৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই যেভাবে তাঁকে (সিভি আনন্দ বোস) সরিয়ে দেওয়া হল, তা অত্যন্ত অন্যায় এবং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওঁর মেয়াদের আরও দেড় বছর বাকি ছিল, অথচ ভোটের ঠিক আগেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল।'

রাষ্ট্রপতি সফর ও দার্জিলিং যাত্রা প্রসঙ্গে বিতর্ক
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বাংলা সফর চলাকালীন সিভি আনন্দ বোসের দার্জিলিং যাওয়ার কথা ছিল। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যপালের পাহাড় সফরের জন্য বিমানের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারণে তিনি আর যেতে পারেননি। মমতার দাবি, প্রাক্তন রাজ্যপালকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল যাতে তিনি দার্জিলিং না গিয়ে সরাসরি দিল্লিতে পৌঁছান। এই ঘটনাকে কেন্দ্রের একতরফা সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছে ঘাসফুল শিবির।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ভবিষ্যতের আমন্ত্রণ
ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরেন মমতা। তিনি বলেন, ‘ওঁর সঙ্গে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা খুব ভালো। আমি ওঁর পরিবারের সদস্যদেরও চিনি। উনি একজন পণ্ডিত মানুষ।’ মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, হোটেল ছেড়ে সরকারি গেস্ট হাউসে থাকার অনুরোধও জানিয়েছিলেন নিজেই। রাজ্যপাল হোটেলে থাকতে চেয়েছিলেন। কারণ রাজ্যপালের মর্যাদাবোধ আছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীই বলেছিলেন যে কেন হোটেলে থাকবেন। রাজ্য সৌজন্য বজায় আছে।হোটেলে কেন থাকবেন, সেটাও জানিয়ে সরকারি অতিথিশালায় তাঁকে থাকতে বলেন। সেইসঙ্গে বিদায়ি রাজ্যপালকে আগামিদিনে ফের বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে মমতা বলেন, ‘উনি বাংলাকে ভালো বোঝেন। আমি তাঁকে অনুরোধ করেছি ভবিষ্যতে আবার আমাদের রাজ্যে আসতে।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় বোস নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী
সাক্ষাৎ শেষে সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বিদায়ি রাজ্যপালকে একজন 'শিক্ষিত এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি' হিসেবে অভিহিত করেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘রাজ্যপাল হিসেবে ওঁর কার্যকালে রাজ্যের মানুষের উন্নয়ন ও প্রগতি নিয়ে আমাদের মধ্যে বহুবার গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আমি সেই আলোচনাগুলোকে সব সময় গুরুত্ব দিয়েছি। আমি নিশ্চিত যে ওঁর জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা আগামী দিনে যে কোনও দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।’
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper











