Law And Order: বিধানসভায় পাশ বহুচর্চিত গুন্ডাদমন বিল ২০২৬, পুলিশকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়ার পথে সরকার

Law And Order:পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, 'গরিবের টাকা যারা শোষণের চেষ্টা করবেন, তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্যই এই বিল অত্যন্ত দরকার।সরকারি সম্পত্তির দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না আর।আমরা এমনই ব্যবস্থা করছি।এই বিলের মাধ্যমে পুলিশকে টেবিলের তলা থেকে বের করে গুন্ডাদের টেবিলের তলায় ঢোকানোর সময় এসেছে।'

Published on: Jun 29, 2026, 18:33:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Law And Order: তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে রাজ্যজুড়ে লুটপাট ও দুর্নীতির ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি ছোট-বড় বহু তৃণমূল নেতা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চোখ ধাঁধানো প্রতিপত্তি দেখে চোখ কপালে উঠেছে বাংলার মানুষের। রাতারাতি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। তল্লাশিতে তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশের হাতে উদ্ধার হয়েছে সুবিশাল বাড়ি, বিপুল ব্যাঙ্ক আমানত, তাল তাল সোনাদানা-সহ নানা মূল্যবান সম্পদ। এই আবহে রাজ্যে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, সিন্ডিকেট রাজ এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা রুখতে কঠোর অবস্থানের পথে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।

বিধানসভায় পাশ বহুচর্চিত গুন্ডাদমন বিল ২০২৬ (HT_PRINT)
বিধানসভায় পাশ বহুচর্চিত গুন্ডাদমন বিল ২০২৬ (HT_PRINT)

সোমবার বিধানসভায় পাশ হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’, যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয় সরকারের প্রস্তাবিত বিলটি। বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৭৬। বিপক্ষে পড়েছে ৪১ ভোট। ভোটদানে বিরত থাকলেন ২০ বিধায়ক। ভোটদানে বিরত থাকল ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির। এদিন কেন গুন্ডাদমন আইন প্রয়োজন, তার স্বপক্ষে বলতে গিয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারের আমলে ‘সন্ত্রাসের’ বিবরণ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন। তিনি বলেন, 'দেশের মধ্যে প্রথম সিএএ বিরোধী মিছিল হয়েছিল বাংলায়। সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিল করে বাংলায় আগুনটা লাগিয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর থেকে গোটা বাংলা জ্বলল।'

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'চাঁচলের সামসিতে রেল লাইন উপড়ে দেওয়া হয়েছিল। রেলে কী শুধু হিন্দুরা চড়ে, মুসলমানরা চড়ে না? বেলডাঙায় স্টেশন জ্বলেছে, ৫০০ হকারের দোকান পুড়েছে। নিমতিতাতে ৬৮ দোকান লুট, রেজিনগর স্টেশনে আগুন। নবান্ন থেকে একটু দূরে সাঁতরাগাছিতে ৩৭টা বাসে আগুন ধরানো হয়েছিল, তার মধ্যে ২২টা ছিল সরকারি বাস। বেছে বেছে মোথাবড়িতে হিন্দু দোকানে আগুন।' এই আইনের আওতায় অপরাধীদের শুধু জেলবাস নয়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ উসুল করা হবে। ‘বিরোধ করতে হলে ইন্ডি-রাজ্যে যান’ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিলের পক্ষে দাঁড়িয়ে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক তথা পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, 'গরিবের টাকা যারা শোষণের চেষ্টা করবেন, তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্যই এই বিল অত্যন্ত দরকার। সরকারি সম্পত্তির দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না আর। আমরা এমনই ব্যবস্থা করছি। এই বিলের মাধ্যমে পুলিশকে টেবিলের তলা থেকে বের করে গুন্ডাদের টেবিলের তলায় ঢোকানোর সময় এসেছে।' অন্যদিকে, এই বিলের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। এই প্রসঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, 'বিলে বলা হচ্ছে সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিরোধীরা মত প্রকাশ করলে সন্দেহ করা হবে না তো? সত্যি সত্যি যারা দোষী তাদের গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া হোক। নির্দোষরা যাতে কোনওভাবেই এর জন্য ভুক্তভোগী না হয়।' বিলটি সিক্রেট কমিটির কাছে পাঠানোর আবেদন জানান নওশাদ ও কুনাল ঘোষরা। তবে গুন্ডাদমন বিলের বিরোধিতায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বক্তব্য শুরু করতেই বিধানসভা কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। বক্তব্য পেশই না করেই বসতে পড়তে হন তৃণমূল বিধায়ককে।

শোভনদেবের পরেই বিধানসভায় বলতে দাঁড়ান আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক তথা পুর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। গত সরকারের বিরোধিতায় অগ্নিমিত্রা পাল বক্তব্য, 'যে সরকার ভোট পরবর্তী হিংসা অপরাধ নয়, যে দলের নেতার গাড়ির বনেটে দাঁড়িয়ে ডিজে বাজানোর হুমকি দেয়। তাঁদের হাতে বাংলার শাসনের দায়িত্ব ছিল। এ যেন ঠিক বিড়ালকে মাছ পাহারা দেওয়ার মতো ঘটনা।' উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উস্কানিমূলক মন্তব্য করলেও তাও গুন্ডাদমন বিলের আওতায় আসবে। বিধানসভায় স্পষ্ট করেন অগ্নিমিত্রা।

নতুন এই বিলটির খসড়া অনুযায়ী, সমাজবিরোধী কাজকে সংজ্ঞায়িত করার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বেআইনি দখলদারি, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, বালি-পাথর-খনিজ সম্পদের অবৈধ উত্তোলন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির মতো প্রতিটি কাজকেই এখন ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। বিলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল-ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ ‘দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা’ আদায়ের ক্ষমতা। তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশকে এই বিলে দেওয়া হয়েছে ‘ব্যাপক’ ক্ষমতা, যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করা যায়। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বা মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে, এমন সব কাজই সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞার মধ্যে আনা যাবে। এর মধ্যে রাখা হয়েছে-শৃঙ্খলা নষ্ট করা, মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, আইনসম্মত ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনি ভাবে কারও স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দখল করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা, খনি, বালি, পাথর বা প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনি ভাবে উত্তোলন করা, বন্যপ্রাণী বা বনজ সম্পদের ক্ষতি করা। অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক হিংসা নয়, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট, বেআইনি খনি বা বালি কারবার, সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসায় বাধা-সব কিছুকেই এই আইনের আওতায় আনার রাস্তা খুলে রাখা হয়েছে।

অনেকের মতে, এই বিল একদিকে যেমন সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে, অন্যদিকে তৃণমূল জমানার বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও বিরোধীদের তরফে বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি উঠেছে, তবে সরকার বিলটি দ্রুত পাশ করিয়ে রাজ্যে কঠোর আইনের শাসন কায়েম করতে বদ্ধপরিকর।