গোয়ার মজা এবার দিঘায়! সমুদ্রবক্ষে নাচ-গান-খানাপিনার এলাহী আয়োজন, কবে থেকে শুরু নয়া অ্যাডভেঞ্চার?
বস্তুত, ইতিপূর্বে পরিবহণ দফতরের এই জলযান হলদিয়া থেকে আনা হয়েছিল। তারপর ডিএসডিএ টেন্ডার ডেকে প্রমোদতরীটি পরিচালনার দায়িত্ব ওই ঠিকাদার সংস্থার হাতে দেয়।
সমুদ্রের গর্জন, তার মাঝে যদি গান শুনতে শুনতে ভ্রমণ করা যায় প্রমোদতরীতে! কলকাতার অদূরেই এবার সেই থাকছে ব্যবস্থা। পর্যটকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে দিঘায় চালু হতে চলেছে আকর্ষণীয় ক্রুজ পরিষেবা। সারা বছরই দিঘায় পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। দূর দূরান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক দিঘার সমুদ্র সৈকতে এসে ভিড় জমান। আর তাঁদের কথা মাথায় রেখেই চালু হচ্ছে আকর্ষণীয় ক্রুজ ‘এমভি নিবেদিতা।' প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই এই প্রমোদতরী সমুদ্রে নামবে।

বর্তমানে এই প্রমোদতরীর চালুর জন্য যাবতীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত। দিঘা সংলগ্ন পূর্ব মুকুন্দপুরের নায়েকালী মন্দিরের পাশে চম্পা খালের জেটিতে জলযানটিকে নোঙর করে রাখা হয়েছে। ছাড়পত্র পেলেই সেটি সমুদ্রে ভ্রমণে বেরোবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর তা দিঘায় যাওয়া পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পর্যটকদের জন্য থাকছে একাধিক ব্যবস্থাও। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে পর্যটকদের ওঠানামার সুবিধার্থে সেখানে পন্টুন জেটি ও গ্যাংওয়ে তৈরি করা হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের রাস্তা থেকে জেটি পর্যন্ত একটি দীর্ঘ কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যার দু’পাশে বসানো হয়েছে একাধিক পথবাতি। ডিএসডিএ নিযুক্ত একটি ঠিকাদার সংস্থা পুরো প্রকল্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। পিপিপি মডেলে পরিচালিত হবে এই প্রমোদতরী।
বস্তুত, ইতিপূর্বে পরিবহণ দফতরের এই জলযান হলদিয়া থেকে আনা হয়েছিল। তারপর ডিএসডিএ টেন্ডার ডেকে প্রমোদতরীটি পরিচালনার দায়িত্ব ওই ঠিকাদার সংস্থার হাতে দেয়। তৈরি হয় পন্টুন জেটি ও গ্যাংওয়ে। পাশাপাশি, জলযানটি কতটা সুরক্ষিত, তা খতিয়ে দেখার জন্য খাল ও সংলগ্ন সমুদ্রে একাধিকবার ট্রায়ালও হয়। জেটি পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা মাটির ছিল। সব সমস্যা কাটিয়ে রাস্তা-সহ যাবতীয় পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে।
প্রমোদতরীতে সুযোগ-সুবিধা কী থাকছে?
এই আধুনিক প্রমোদতরীতে পর্যটকদের জন্য নানা আকর্ষণীয় সুবিধা রাখা হয়েছে। রাতের বেলায় আলোয় সেজে উঠবে পুরো জলযান। থাকবে উন্নত সাউন্ড সিস্টেম। নাচ–গান ও খানাপিনার আসর-সহ সমুদ্রবিলাসের সব ব্যবস্থা থাকবে। আধুনিক সুবিধাযুক্ত এই জলযানে ছোট রেস্তরার পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা। প্রতি সফরের সময় ধরা হয়েছে প্রায় এক ঘণ্টা। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন দুটি করে ট্রিপ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ক্রুজটির দুই ডেকে মোট ৮০ জন পর্যটক বসতে পারবেন। এলইডি স্ক্রিনে তথ্যচিত্র আকারে দিঘার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরা হবে ও যাত্রীরা দিঘা-সহ সন্নিহিত এলাকা সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারবেন। জেটি থেকেই যাত্রা শুরু করবে প্রমোদতরী। যাত্রা শেষে সেখানেই ফিরে আসবে। মাথাপিছু কত ভাড়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে খবর। এই প্রমোদতরীতে ভ্রমণের জন্য স্পট ও অনলাইন-দু’ধরনের বুকিংয় থাকবে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার কর্তা প্রদীপ দাস বলেন, প্রমোদতরী চালানোর জন্য যাবতীয় পরিকাঠামো তৈরি। প্রশাসন সবুজ সঙ্কেত দিলেই প্রমোদতরীটি চালু করে হবে। এদিকে, ডিএসডিএ’র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সুরজিৎ পণ্ডিত বলেন, 'প্রমোদতরীটি প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে চালানো যাচ্ছে না। আমরা এটি চালুর ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য পরিবহণ দফতরের কাছে আবেদন করেছি। আশা করছি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললেই খুব শীঘ্রই ক্রুজটি চালু হবে।' আগামী দিনে সমুদ্রবক্ষে এই প্রমোদ ভবন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
E-Paper











