Sign in

Nutritionist on WB Mid Day Meal Row: 'আদর্শগত কারণে...', বাংলায় মিড-ডে মিল থেকে ডিম বাদ বিতর্কে মুখ খুললেন পুষ্টিবিদ

সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) অধীন সরকারি স্কুলগুলিতে পরীক্ষামূলকভাবে ইসকন (ISKCON)-এর মাধ্যমে রান্না করা মিড-ডে মিল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু ইসকন সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্যনীতি অনুসরণ করে, তাই ওই প্রকল্পের আওতায় স্কুলগুলিতে আর ডিম পরিবেশন করা হবে না।

Published on: Jun 28, 2026, 08:53:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল প্রকল্পে ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই শিশুদের পুষ্টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টিবিদ ডা. সুনীত খান্না। তাঁর মতে, এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, কোনও রাজনৈতিক বা আদর্শগত অবস্থান নয়।

সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) অধীন সরকারি স্কুলগুলিতে পরীক্ষামূলকভাবে ইসকন (ISKCON)-এর মাধ্যমে রান্না করা মিড-ডে মিল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (AP Photo/Channi Anand)
সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) অধীন সরকারি স্কুলগুলিতে পরীক্ষামূলকভাবে ইসকন (ISKCON)-এর মাধ্যমে রান্না করা মিড-ডে মিল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (AP Photo/Channi Anand)

সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) অধীন সরকারি স্কুলগুলিতে পরীক্ষামূলকভাবে ইসকন (ISKCON)-এর মাধ্যমে রান্না করা মিড-ডে মিল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু ইসকন সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্যনীতি অনুসরণ করে, তাই ওই প্রকল্পের আওতায় স্কুলগুলিতে আর ডিম পরিবেশন করা হবে না। পরিবর্তে পনির, সয়াবিন, টোফু, রাজমা, বিভিন্ন ডাল এবং দুধজাত খাদ্যের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ নিরামিষ খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডা. সুনীত খান্না বলেন, ইসকন এবং জৈন সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় বিশ্বাস ও অহিংসার নীতির ভিত্তিতে নিরামিষ জীবনধারা অনুসরণ করে আসছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের খাদ্যনীতি সম্মানযোগ্য। তবে শিশুদের পুষ্টির প্রশ্নে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।

ডা. খান্নার মতে, ডিম শিশুদের জন্য অন্যতম সেরা পুষ্টিকর খাদ্য। এতে উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, কোলিন, ভিটামিন ডি এবং আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা বেড়ে ওঠা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, নিরামিষ খাদ্যের মধ্যেও কিছু কার্যকর বিকল্প রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সয়াবিন ও টোফু সম্পূর্ণ প্রোটিনের উৎস হওয়ায় ডিমের সবচেয়ে কাছাকাছি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পাশাপাশি পনির প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। বিভিন্ন শাকসবজি ভিটামিন, খনিজ, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হলেও সেগুলি ডিম বা সয়াবিনের মতো প্রধান প্রোটিনের উৎস হতে পারে না। তাই তাঁর মতে, কোনও সিদ্ধান্ত যেন আদর্শগত কারণে নয়, বরং শিশুদের পুষ্টির প্রয়োজন বিবেচনা করেই নেওয়া হয়।

এদিকে রাজ্যের বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের জন্য প্রতি ছাত্রের খাদ্য ব্যয় ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। এই ঘোষণাকে সব রাজনৈতিক দল স্বাগত জানালেও ডিম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলার দীর্ঘদিনের খাদ্যসংস্কৃতি বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি শিশু প্রাণিজ প্রোটিন খেয়ে বড় হয়েছে, তাই পুষ্টি প্রকল্পেও স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের প্রতিফলন থাকা উচিত।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েনও অভিযোগ করেন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে ব্যবহার করে নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার আদর্শগত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, শিশুদের পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য এবং নিরামিষ প্রোটিনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More