বঙ্গে কার্যকর আদর্শ আচরণবিধি! ভোট ঘোষণা হতেই ক্যানিংয়ে পার্কের উদ্বোধন TMC বিধায়কের, উঠছে প্রশ্ন
রবিবার বিকেল ৪টেয় দিল্লিতে বাংলা-সহ ৫ রাজ্যের নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে কমিশন। জানানো হয়, ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়েছে।
রবিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচন ঘোষণার পরই রাজ্যজুড়ে লাগু হয়েছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। কমিশনের নির্বাচনের দিনক্ষণ প্রকাশের আধ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠল। রবিবার ক্যানিংয়ে ঘটা করে সরকারি পার্কের উদ্বোধন করলেন খোদ তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক। এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি লাগুর পর এভাবে পার্কের উদ্বোধন করা যায় কিনা। তৃণমূল বিধায়ক অবশ্য পার্কের উদ্বোধন নিয়ে যুক্তি দিয়েছেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করেছে বিজেপি।

ক্যানিংয়ে কী ঘটেছে?
রবিবার বিকেল ৪টেয় দিল্লিতে বাংলা-সহ ৫ রাজ্যের নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে কমিশন। জানানো হয়, ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক বৈঠক শেষ হতে না হতেই আধ ঘণ্টার ব্যবধানে মহা সমারোহে ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতি এলাকায় সরকারি পার্ক উদ্বোধন করলেন ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস। বিধায়ক তহবিলের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘নেতাজি সুভাষ পার্ক’ উদ্বোধনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই রাজ্যে কোনও নতুন সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন বা শিলান্যাস করা যায় না। কিন্তু সেই নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠছে শাসকদলের বিধায়কের বিরুদ্ধে।
কী বললেন তৃণমূল বিধায়ক?
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিধায়ক পরেশরাম দাস বলেন, 'এটা কোনও নিয়মভঙ্গ নয়। অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। চার দিন আগে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া ছিল। আজ শুধু উদ্বোধন হয়েছে। এই পার্কের জন্য ৩ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এক কোটি টাকার কাজ হয়েছে।' সাধারণ মানুষের জন্য এই পার্কের উদ্বোধনে কোনও আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
তৃণমূলকে নিশানা গেরুয়া শিবিরের
তবে এই নিয়ে শাসকদলের তীব্র সমালোচনা করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সঞ্জয় নায়েক কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, 'এই রাজ্যে সংবিধান বা আইনের কোনও বালাই নেই। তৃণমূলের কাছে নিয়ম মানেই তা ভাঙার জন্য। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করুক।' ক্যানিংয়ের এই ‘উদ্বোধনী রাজনীতি’ কী ভোটের লড়াইয়ে বাড়তি মাইলেজ দেবে শাসকদলকে, নাকি আইনি গেরোয় বিপাকে পড়বেন বিধায়ক? সেটাই এখন দেখার।
উল্লেখ্য, রবিবার বিকেলে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হবে দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে। ভোটের ফলঘোষণা আগামী ৪ মে, সোমবার।
E-Paper

