Police Raid in Jamuria: সতর্ক করেছিলেন মমতাও! প্রাক্তন বিধায়ক-পুত্রের কার্যালয়ে উদ্ধার ৮০ রাউন্ড কার্তুজ-ইসিএলের নথি
Police Raid in Jamuria: ২০২১ সালে জামুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন হরেরাম সিং। অভিযোগ, বাবার রাজনৈতিক ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে তাঁর পুত্র প্রেমপাল সিং গত পাঁচ বছর জামুড়িয়া এলাকায় কার্যত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।
Police Raid in Jamuria: এক সময় যাঁকে নিয়ে খোদ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্কবাণী শোনাতে হয়েছিল, সেই প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হরেরাম সিংয়ের পুত্র প্রেমপাল সিংয়ের কার্যালয়ে পুলিশের হানা ঘিরে বুধবার বিকেলে উত্তাল হয়ে উঠল পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া। পাণ্ডবেশ্বরের বহুলা এলাকায় প্রেমপালের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৮০টি গুলির খালি খোল (কার্তুজ) এবং ইসিএলের বেশ কিছু গোপন নথি উদ্ধার করেছে। যা সেখানে থাকার কথা নয়। এই ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক মহলে প্রবল শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বর্তমানে বাবা-ছেলে দু'জনই পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

২০২১ সালে জামুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন হরেরাম সিং। অভিযোগ, বাবার রাজনৈতিক ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে তাঁর পুত্র প্রেমপাল সিং গত পাঁচ বছর জামুড়িয়া এলাকায় কার্যত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। প্রেমপাল একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। এলাকায় তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল। লালবাতি জ্বালিয়ে, হুটার বাজিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। আচরণের জন্য একাধিকবার সংবাদপত্রের শিরোনামেও এসেছেন। মন্ত্রী তাঁরা বানান বলেও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন প্রেমপাল সিং। প্রেমপালের ঔদ্ধত্য এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভা থেকেই হরেরাম সিংকে তাঁর ছেলের বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তবে ছোট বিষয় বলে ব্যাপারটি এড়িয়ে গিয়েছিলেন হরেরাম। দলের অন্দরেও বিধায়ক-পুত্রকে নিয়ে অস্বস্তি চরমে উঠেছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল।
তবে ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই প্রেমপাল সিংকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। তিনি বেপাত্তা হয়ে রয়েছেন। জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরের পর জামুড়িয়া থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বহুলার ওই অফিসে অতর্কিতে অভিযান চালায়। পুলিশের তল্লাশিতে অফিস থেকে ৮০টি খালি কার্তুজ উদ্ধার হয়, যা এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া নথিপত্রগুলিও অত্যন্ত আপত্তিকর। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, 'অফিস থেকে ৮০টি গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে। কোন সময় এই গুলিগুলি চালানো হয়েছিল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু নথি পাওয়া গিয়েছে। তবে হরেরাম সিং বা তাঁর পুত্র প্রেমপাল-কাউকেই ওই সময়ে অফিসে পাওয়া যায়নি।'
পুলিশের এই হানা ফের একবার প্রেমপাল সিংকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। প্রাক্তন বিধায়ক ও তাঁর পুত্রের এই অফিস থেকে অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সরকার বদলের পর প্রেমপালের এই ‘অপারেশন’ ও তাঁর রহস্যময় অন্তর্ধান নিয়ে এখন নানা মহলে জল্পনা তুঙ্গে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে জামুড়িয়া থানার পুলিশ। প্রেমপাল ও তাঁর বাবা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে ব্যাপক খোঁজখবর।
E-Paper

