জলাভূমি বুজিয়ে বাড়ি তৈরি! ভোটমুখী বঙ্গে বিপাকে হুমায়ুন কবীর, স্ত্রীকে তলব পুলিশের
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, 'নালা' প্রকৃতির জমি বলতে সাধারণত জল নিষ্কাশনের ছোট খাল বা ডোবাকে বোঝায় যা জলাশয় বা কৃষি জমির অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরও বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। জলা জমির উপর 'বেআইনিভাবে' বসত বাড়ি তৈরি করার অভিযোগে এবার তাঁর স্ত্রী মিতা সুলতানাকে তলব করল পুলিশ। বুধবার শক্তিপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয় তাঁকে। আর এই ঘটনার খবর জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত
মুর্শিদাবাদের মানিক্যহার গ্রামে হুমায়ুন কবীরের বাড়ি। সেটি স্ত্রী মিতা সুলতানার নামে নথিভুক্ত। আর সেই বাড়িটি নিয়েই যাবতীয় বিতর্ক। অভিযোগ উঠছে, জমির চরিত্র বদল না করেই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। এমনকী ‘নালা’ অর্থাৎ জলাশয়ের উপরেই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এর আগে হুমায়ুন-পত্নীকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে নোটিস পাঠানো হয়। ওই লিখিত নোটিসে জানানো হয়, মানিক্যহার মৌজায় জে এল নম্বর ৯২, প্লট নম্বর ৪৪০৪-এ প্রায় ০.২ একর জমির চরিত্র বেআইনিভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই মর্মে একটি গণস্বাক্ষর করা অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। বেআইনিভাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন করার জন্য আগামী সাত দিনের মধ্যে হুমায়ুন-পত্নীকে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। যথাযথ উত্তর না পেলে তাঁর বিরুদ্ধে ডব্লিউবিএলআর আইন ১৯৫৫ অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের নিয়ম
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, 'নালা' প্রকৃতির জমি বলতে সাধারণত জল নিষ্কাশনের ছোট খাল বা ডোবাকে বোঝায় যা জলাশয় বা কৃষি জমির অংশ হিসেবে গণ্য হয়। আইনত নালা ভরাট করা বা তার চরিত্র পরিবর্তন বেআইনি। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের অনুমতি ছাড়া এই জমির ব্যবহার পরিবর্তন করা যায় না। হুমায়ুন কবীরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকলেও তিনি মানিক্যহার গ্রামে জমির চরিত্র পরিবর্তন করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে থাকছেন।
হুমায়ুন কবীরের প্রতিক্রিয়া
এই প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, 'শক্তিপুর থানার মানিক্যহার গ্রামে যে বাড়িটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেখানে আমি প্রায় ১৭ -১৮ বছর ধরে থাকি। ২০০৩ সালে স্থানীয় ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আমি ওই জায়গাটি কিনেছিলাম। ২০০৫ সালে আমার বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয় এবং ২০০৭ সাল থেকে আমি পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে থাকছি। বাড়িটি আমার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে।' হুমায়ুনের কথায়, 'বাড়িটির জমির চরিত্র ভূমি সংস্কার দফতরের খাতায় 'নালা' হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে। বাম আমলে ওই জমির চরিত্র পরিবর্তন করে 'ভিটে' করার জন্য আমি বহুবার বিএলআরও এবং এসডিএলআরও অফিসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় 'ফিজ' জমা দিয়েছিলাম। একাধিকবার ওই অফিসে ঘোরার পরও আমার আবেদন মঞ্জুর হয়নি। আমি যখন বাড়ি তৈরি করেছিলাম সেই সময় প্রশাসনের তরফ থেকে কেউ বাধাও দিতে আসেনি। জমির চরিত্র পরিবর্তন করতে চেয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে প্রশাসনের দরজায় ঘুরে ঘুরে কাজ না হওয়ায় আমি আর ওই জমির চরিত্র পরিবর্তন করার জন্য আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। এখন শুনছি আমার স্ত্রীর নামে অবৈধভাবে বাড়ি তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।'
এই চিঠি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, 'শুধু আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে হবে না। বাকি যারা বেআইনিভাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন করে বাড়ি তৈরি করেছেন বা অন্য স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।' তিনি অভিযোগ করেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন দল করার জন্য আমার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে।'
E-Paper











