BJPর 'পরিবর্তন যাত্রা'র রথ ভাঙচুর! কোচবিহারে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ, কাঠগড়ায় তৃণমূল?

বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, কয়েক দিন আগেই একই এলাকায় রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। 

Published on: Mar 05, 2026 6:20 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শিয়রে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক ময়দানে তৎপরতা বাড়িয়েছে বিভিন্ন দল। সেই আবহে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে রাজ্যজুড়ে 'পরিবর্তন যাত্রা' শুরু করেছে বিজেপি। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরেই বৃহস্পতিবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি এলাকায়। পরিবর্তন যাত্রার রথে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস।

BJPর 'পরিবর্তন যাত্রা'র রথ ভাঙচুর!
BJPর 'পরিবর্তন যাত্রা'র রথ ভাঙচুর!

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই খাগড়াবাড়িতে পরিস্থিতি ছিল থমথমে। বিজেপির অভিযোগ, বুধবার রাতে তাদের ট্যাবলোটি যখন মহিষবাথান এলাকায় ছিল, তখন স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও তাঁর অনুগামীরা আচমকা হামলা চালায়। ট্যাবলোর কাঁচ ভাঙার পাশাপাশি চালক ও সেখানে উপস্থিত কর্মীদের মারধর করা হয়। উঠে আসছে তৃণমূলের যুব নেতা সায়নদীপ গোস্বামীর নাম। তাঁর নেতৃত্বের হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই পুণ্ডিবাড়িতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধে বসেন বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়। প্রায় আধ ঘণ্টা অবরোধ চলায় স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, কয়েক দিন আগেই একই এলাকায় রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই একই অঞ্চলে আবারও তাঁদের প্রচারযাত্রা লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াবাড়ির বিভিন্ন রাস্তায় দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের জটলা চোখে পড়ে। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের হাতে বাঁশ ও লাঠিও দেখা গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ফলে যে কোনও সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, 'এই অঞ্চল, বিশেষ করে খাগড়াবাড়িতে তৃণমূল যে ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাস-হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, এটাই বাস্তব। কোচবিহারের অনুপ্রবেশকারীদের বাড়বাড়ন্ত বেশি। আর এটাকে ভরসা করেই তৃণমূল বারংবার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তন যাত্রা কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ করবে।' তবে এই হামলার নেপথ্যে অন্য তত্ত্ব খাড়া করেছে শাসক দল। তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, 'কী হয়েছে, তার রিপোর্ট পাওয়ার আগে তো মন্তব্য করা যাবে না। তবে নিশ্চয়ই প্রশাসন দেখবে। এসআইআর-এর কারণে বিজেপির ওপরে সাধারণ মানুষ খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছে। তারই প্রতিফলন হতে পারে।'

এই ঘটনার পর খাগড়াবাড়িতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা। নির্বাচনের আগে এমন সংঘাতমুখর পরিস্থিতি যে রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। প্রসঙ্গত, গত ১ মার্চ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন। রথের আদলে তৈরি এই ট্যাবলোটি বিভিন্ন বিধানসভা ঘুরে ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় পৌঁছানোর কথা।