'বাংলাকে যারা ভালোবাসে...,' নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ আর এন রবির, বিশেষ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি কেন্দ্রীয় মহলে পরিচিত এক মুখ আর এন রবি।
দোরগোড়ায় বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই বাংলার নয়া রাজ্যপাল হিসাবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। বৃহস্পতিবার লোকভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু-সহ প্রমুখরা। তবে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী বিজেপির কোনও সদস্যকেও নয়া রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে গত ৫ মার্চ আচমকাই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে হঠাৎ ইস্তফা দেন সি ভি আনন্দ বোস। তারপরই জানা যায়, আপাতত বাংলার রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলাবেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল তথা প্রাক্তন আইপিএস আর এন রবি। বুধবারই কলকাতায় পৌঁছোন বোসের উত্তরসূরি। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাজ্যের ২২ তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন আর এন রবি। নির্ধারিত সময় মেনেই সকাল সাড়ে ১১টায় শপথগ্রহণ শুরু হয়। শপথগ্রহণের আগে এবং পরে জাতীয় গান বন্দে মাতরম এবং জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন বাজানো হয়। শপথ বাক্য পাঠের শেষে মুখ্যমন্ত্রী এবং নবনিযুক্ত রাজ্যপালকে সৌজন্য বিনিময় করতেও দেখা যায়। সূত্রের খবর, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে নবনিযুক্ত রাজ্যপালের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাকে যারা ভালোবাসে, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে'।
কে এই আর এন রবি?
দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি কেন্দ্রীয় মহলে পরিচিত এক মুখ আর এন রবি। তাঁর পুরো নাম- রবীন্দ্র নারায়ণ রবি, জন্ম ৩ এপ্রিল ১৯৫২। ২০২১ সাল থেকে তামিলনাড়ুর ১৫তম এবং বর্তমান রাজ্যপাল তিনি। এর আগে তিনি নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল (২০১৯-২০২১) ছিলেন এবং মেঘালয়ের রাজ্যপাল (অতিরিক্ত দায়িত্বে) (২০১৯–২০২০) হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন রবি। তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর বিতর্ক রয়েছেন। বিশেষ করে রাজ্যপাল হিসেবে প্রশাসনিক ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ, বিল আটকে রাখা (যাতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে) এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বিল নিয়ে বিতর্কের জন্য পরিচিত তিনি। ১৯৭৬ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের একজন আইপিএস আর এন রবি। একটা সময় তিনি ভারতের ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাগা শান্তি আলোচনায় (সেপ্টেম্বর ২০১৪ থেকে মার্চ ২০২২ পর্যন্ত) ভারতের সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
এর আগে নতুন রাজ্যপালের নাম সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই নতুন রাজ্যপাল ঠিক করেছে কেন্দ্র। পরবর্তী সময় আর এন রবিকে উদ্দেশ্য করে 'বিজেপির ক্যাডার' বলেও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'নতুন যিনি আসছেন, তিনি বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। জেনে রাখুন, বাংলা কিন্তু অন্য জায়গা।' তামিলনাড়ুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, সেখানেও মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনকে একইভাবে ব্যতিব্যস্ত হতে হয়েছে।
E-Paper











