'ইন্টেলেকচুয়ালি নিম্নমানে!' কমরেড ছাত্রীর যৌন হেনস্থার পর অজুহাত SFI নেতার, অস্বস্তিতে বাম শিবির
বুধবার থেকেই এসএফআইয়ের কলকাতা জেলার সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সম্মেলনের আগে যাতে অস্বস্তি না বাড়ে তাই ওই ছাত্রী কমরেডের অভিযোগ ধামাচাপা দিয়ে রাখারই প্রাণপণ চেষ্টায় সিপিএম।
সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের অন্দরে ফের যৌন হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কলকাতার এক ছাত্রী কমরেড সরাসরি সংগঠনেরই এক ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণী- দু’জনেই এসএফআইয়ের কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার থেকে শুরু হওয়া কলকাতা জেলা সম্মেলনের ঠিক আগে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় সংগঠনের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার থেকেই এসএফআইয়ের কলকাতা জেলার সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সম্মেলনের আগে যাতে অস্বস্তি না বাড়ে তাই ওই ছাত্রী কমরেডের অভিযোগ ধামাচাপা দিয়ে রাখারই প্রাণপণ চেষ্টায় সিপিএম। সংগঠনের ভেতর থেকেই অভিযোগ উঠেছে, কলকাতা জেলার সম্পাদকমণ্ডলীর এক মহিলা সদস্য লিখিতভাবে আর এক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন ও মানসিক হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, বেলেঘাটা এলাকার যে ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি এসএফআই রাজ্য কমিটির সদস্যও। অভিযুক্ত ওই এসএফআই নেতার পার্টিতেও পরিচিতি রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে লিখিতভাবেই ওই ছাত্রী কমরেড অভিযোগ জানালেও সংগঠনের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ছাত্রনেতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল অভিযোগকারিণীর। বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। সেই সূত্রে দু’জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও তৈরি হয়। পরে ওই ছাত্রী জানতে পারেন যে অভিযুক্ত নেতার অন্য একাধিক মহিলার সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে। সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলায় অভিযুক্ত নেতা তাঁকে ‘ইন্টেলেকচুয়ালি নিম্নমানের’ বলে অপমান করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এসএফআইয়ের অন্দরের একাংশের দাবি, এই ঘটনার পর অভিযোগকারিণী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সংগঠনের ভিতরেই তাঁকে বিষয়টি আর না বাড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কারণ, অভিযুক্ত ছাত্রনেতা নাকি কলকাতা জেলা এসএফআইয়ের সভাপতি বা সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বলে সংগঠন সূত্রে খবর। ফলে জেলা সম্মেলনের আগে বিষয়টি সামনে আসায় এসএফআই নেতৃত্বের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
উল্লেখ্য, এর আগেও এসএফআই ও সিপিএমের অন্দরে একাধিকবার যৌন হেনস্তা বা সম্পর্কজনিত বিতর্ক সামনে এসেছে। দমদম-লেকটাউন এলাকার এক এসএফআই নেতার বিরুদ্ধে এক মহিলা নেত্রী মদ্যপানের প্রস্তাব দেওয়া, ফাঁকা ফ্ল্যাটে ডাকা এবং শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। এছাড়াও এক মহিলার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষকে পদ ছাড়তে হয়েছিল। সম্প্রতি এক মহিলা কমরেডের অভিযোগে প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই একই ধরনের অভিযোগে রাজ্য কমিটির সদস্য যুবনেতা ইন্দ্রজিৎ ঘোষকেও দল থেকে বহিষ্কার করেছে সিপিএম। ফলে একের পর এক অভিযোগে বাম শিবিরের অন্দরমহলে নারী নিরাপত্তা ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
E-Paper











