Signature forgery case: সই জাল কাণ্ডে নয়া মোড়! শোভনদেবের বাড়িতে CID, বিতর্কিত রেজোলিউশনের...
Signature forgery case: সূত্রের খবর, তৃণমূল বিধায়কই আধিকারিকদের শনিবার তাঁর বাড়ি আসতে বলেছিলেন। তদন্তকারীরা তৃণমূলের রেজোলিউশনের কপি খুঁজছিলেন। এদিন ওই কপি আধিকারিকদের হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন।
Signature forgery case: বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের তদন্তে আরও তৎপরতা বাড়াল সিআইডি। তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে এবার বালিগঞ্জের বিধায়ক তথা প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। শনিবার সকালে সিআইডির ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভবানীপুরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান। সূত্রের খবর, প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে ওই প্রবীণ নেতার সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা।

সূত্রের খবর, তৃণমূল বিধায়কই আধিকারিকদের শনিবার তাঁর বাড়ি আসতে বলেছিলেন। তদন্তকারীরা তৃণমূলের রেজোলিউশনের কপি খুঁজছিলেন। এদিন ওই কপি আধিকারিকদের হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সইয়ের দিন একজন বাদে তৃণমূল বিধায়কদের সকলেই উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিদ্রোহী নেতারা চক্রান্ত করেছেন বলে তিনি এদিন অভিযোগ করেন। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'কোর্টে কেস আছে। আমি একটা শব্দও বলব না। তবে ২০০ শতাংশ সহযোগিতা করেছি। আগামিদিনেও করব। এর বেশি কিছু বলার নেই। তবে এ সব যাঁরা করেছেন, বিশেষ ইন্টারেস্ট নিয়ে এসেই করেছেন। আমাদের ভাবনার মধ্যে এ সব ছিল না।' তিনি আরও বলেন, 'যাঁরা স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েছেন, তাঁরাই এগুলো করে দিয়ে গিয়েছেন। আমরা সকলকে বিশ্বাস করে মিটিংয়ে ডেকেছিলাম। এটা কারা করে দিয়ে গিয়েছে? যাঁরা জাল সইটা করে দিয়েই সোজাসুজি চলে গিয়েছেন স্পিকারের কাছে।'
তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল কাণ্ড নিয়ে রীতিমতো উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় প্রবীণ নেতা শোভনদেবকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছেছিলেন। পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে তাঁর নাম প্রস্তাব করে দলের তরফে একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে। ওই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু স্পিকার সেই চিঠি গ্রহণ করেননি। এর পরেই উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা ওই চিঠির স্বাক্ষর নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন স্পিকার। পাশাপাশি, বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন তৃণমূলের বড় অংশের বিধায়করা। শুরু হয় তৃণমূল কংগ্রেসের মুষলপর্ব। একে একে তৃণমূল বিধায়করা 'বিদ্রোহী' শিবিরে নাম লেখাতে থাকেন। তাঁদের 'আসল তৃণমূল' হিসেবে দাবি করেন বিদ্রোহীদের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, এই মুহূর্তে তাঁরাই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ঘোষিত।
এদিকে, এই সই কাণ্ডের তদন্তভার পাওয়ার পর থেকেই সিআইডি তৎপরতা বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক তৃণমূল বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। রেজোলিউশনের কপি খোঁজার জন্য তৃণমূলের কালীঘাটের ওই কার্যালয়েও গিয়েছিল সিআইডি টিম। সই জাল কাণ্ডে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করা হয়েছিল। দিন কয়েক আগে সিআইডি অফিসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হয়েছিল। শুক্রবার নোটিস দিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, এর আগে ১১ ও ১৭ তারিখ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সই জাল কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এদিন তৃণমূল বিধায়ক সিআইডি আধিকারিকদের নিজের বাড়িতে ডেকেছিলেন। তাঁদের হাতে ওই রেজোলিশনের কপি তুলে দেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক আধিকারিকরা ওই বাড়িতে ছিলেন। অন্যদিকে, স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, যার শুনানি আগামী সপ্তাহে হওয়ার কথা। তদন্তের জল শেষ পর্যন্ত কোথায় গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
E-Paper

